• শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
কিশোরগঞ্জে ১১ দলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত বটিয়াঘাটায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতি পক্ষের হামলায় আহত এক নারী মেয়ের জন্য ঠিক করা পাত্রকেই নিয়ে পালালেন মা, ভাইরাল শৈলকুপার ঘটনা প্রশংসায় ভাসছে মিয়াপাড়া মাদরাসা: শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছায় মসজিদ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি বাঁশখালী থানায় নতুন ওসি রবিউল হক, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে প্রত্যাশা। মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  বটিয়াঘাটায় জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা ও মারপিটের অভিযোগ, নারীসহ কয়েকজন আহত অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রচারিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মহিপুরের ইউপি সদস্য মিনারা বেগম।। চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা সেতুতে টোল আদায় বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কটিয়াদী উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

সর্বস্তরে অন্তত সাইনবোর্ডের ভাষা বাংলা লেখা বাধ্যতামূলক করা হোক

Zakir Hossain Mithun / ৫০৯ Time View
Update : বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বস্তরে অন্তত সাইনবোর্ডের ভাষা বাংলা লেখা বাধ্যতামূলক করা হোক

— ডাঃ কামরুল ইসলাম মনা

আজ পহেলা ফেব্রুয়ারী। এটা শহীদের মাস। ভাষার মাস বলে আজ আমরা লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলায় কথা বলতে পারি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বাংলা ভাষা। এই ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে এমন দৃষ্টান্ত বাংলা ছাড়া কোথাও নেই। কিন্তু অতিব লজ্জার বিষয় আজ আমরা সেই বাংলা কে ভুলে বিদেশি ভাষায় সাইনবোর্ড লিখতে মরিয়া। যে ভাষার জন্য সালাম, রফিক, জব্বারদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষা। তাদের রক্ত কি বৃথা হতে চলেছে। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলাতে ইংরেজি শিখতে অবশ্যই শিখতে হবে। এ বিষয়ে ভেড়ামারা অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি ডাঃ কামরুল ইসলাম মনা বলেন, ‘ আমরা অবশ্যই ইংরেজি শিখব, বিদেশি ভাষা শিখব, তাতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু নিজের ভাষাকে ভুলে নয়।’
বাংলা ভাষার সম্মান রক্ষায় নাগরিক সমাজ কে সচেতন হতে হবে। চারিদিকে সকল প্রতিষ্ঠানে আমরা ইংরেজি সাইনবোর্ড লাগানো নিয়ে ব্যস্ত। আমি মনে করি এটা ভাষার অবমাননার শামিল।

স্বাধীনতার ৫১ বছর হয়ে গেলেও এখনো সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি। এই ভাষার জন্য সংগ্রাম করে জীবন দিতে হয়েছে জাতির সূর্য সন্তানদের।

আজকাল পথ-ঘাট, দোকান-পাট, ব্যানার-ফেস্টুন, সাইনবোর্ড ইত্যাদিতে অবাধে ইংরেজির বিচরণ দেখা যায়। যেটুকু আবার বাংলাকে উপস্থাপন করা হয় তাও বিকৃতরূপে। অন্তত সাইনবোর্ডের ভাষা বাংলা হোক।

ভাষা আন্দোলনের মূল প্রাতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘সর্বস্তরে বাংলা ভাষার বিস্তার’। সালাম,রফিক, জব্বারসহ ভাষা আন্দোলনে শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা। শোকের এই মাসে নাগরিক সমাজের দাবী ” সর্বস্তরে বাংলা ব্যবহার লেখা বাধ্যতামূলক করা হোক “। আইনের সঠিক প্রয়োগ এক্ষেত্রে পালন করা হোক।

১৯৮৭ সালে এ আইন হলেও কিছু অর্ধশিক্ষিত, অশিক্ষিত মানুষ আজ ইংরেজি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেশের প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে চলেছেন আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায়।
পরবর্তীতে এ বিষয়ে ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এক আদেশে দেশের সব সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার, গাড়ির নম্বরপ্লেট, সরকারি দপ্তরের নামফলক এবং গণমাধ্যমে ইংরেজি বিজ্ঞাপন ও মিশ্র ভাষার ব্যবহার বন্ধ করতে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে বলেন।
সংবিধানের ৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। এ ছাড়া বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭-এর ৩ ধারায়ও সরকারি অফিস, আদালত, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সওয়াল-জবাব এবং অন্যান্য কাজে বাংলার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
উচ্চ আদালতের নির্দেশের পরও সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ডে বাংলা লেখা নিশ্চিত করা যায়নি। সরকারের তরফ থেকে এ বিষয়ে শুধু আদেশ বা চিঠি দিয়েই দায়িত্ব শেষ করা হয়। সেই আদেশ বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, কিংবা চিঠির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না, তার তদারকি নেই।
দেশব্যাপী ইংরেজি শব্দে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম রাখার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া ইংরেজিতে (রোমান হরফ) লেখা সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, নামফলকের ছড়াছড়ি। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইংরেজিমাধ্যমের স্কুল, দোকানপাট, শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ সাইনবোর্ড ইংরেজিতে লক্ষ করা যায়।
এ বিষয়ে নাগরিক সচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভাষার সম্মান রক্ষায় নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে।
২০১৪ সালের ১৪ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডগুলোকে আদেশটি কার্যকর করতে বলে। কিন্তু তা না হওয়ায় ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট আদালত কড়া ভাষায় মন্তব্য করেন, বাংলা ব্যবহারে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি নেই। পরে ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি এক চিঠির মাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার, গাড়ির নম্বরপ্লেটে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার অনুরোধ জানায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়, সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার ইংরেজির স্থলে বাংলায় প্রতিস্থাপিত হয়েছে বলে দেখা যায় না। এটা বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, হাইকোর্টের রুল ও আদেশের পরিপন্থী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Devoloped By WOOHOSTBD