• মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
কালিয়াকৈরে বিভিন্ন পূজা মন্ডপে দিনরাত জেগে ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিমা তৈরীর কারিগররা সোনারগাঁয়ে কাঁচপুর ইউনিয়নের চেঙ্গাইন এলাকায় ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে নারায়ণগঞ্জ এসআরবি -১১ কুষ্টিয়া জেলায় পদোন্নতি প্রাপ্ত ০১ জন পুলিশ সদস্যকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন পুলিশ সুপার, কুষ্টিয়া মহোদয় শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনে ভেড়ামারাতে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত শেওলা-কচুরিপানায় বন্দী যশোরের ভৈরব নদ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে এস্কাফ সিরাপসহ যুবক আটক সিলেট অভিনব কৌশলে মাদকদ্রব্য পাচার কারী দুই জন ২৪৮১ বিদেশী মদসহ গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জ জেলার সাত থানায় বিভিন্ন অপরাধের ১৫৪ জন গ্রেফতার সিদ্ধিরগঞ্জে পরিত্যক্ত জুট মিল থেকে এলমজি ও কার্তুজ উদ্ধার মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশের অভিযানে চোর চক্রের ২ জন সদস্য গ্রেফতার সহ স্বর্ণালংকার উদ্ধার”

শেওলা-কচুরিপানায় বন্দী যশোরের ভৈরব নদ

Montu Rahman / ৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

মালিকুজ্জামান কাকা

যশোরের ঐতিহ্যবাহী নদ ভৈরব। এই নদজুড়ে আজ শেওলা ও কচুরিপানায় ঠাসা। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নেই। নদের বিভিন্ন অংশে ময়লা-আবর্জনা জমে দূষিত পানি। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি থাকায় নদের পানি গোসল, গৃহস্থালি ও কৃষিকাজে ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী।
সরেজমিনে দেখা যায়, যশোর শহরের দড়াটানা থেকে পুরাতন খয়েরতলা, নূরপুর, পুলতাডাঙ্গা, আব্দুলপুর, বড় হৈবতপুর হয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা পৌরসভা পর্যন্ত ভৈরব নদের বিভিন্ন অংশে শেওলা ও কচুরিপানা ঘন জমে আছে। দড়াটানা থেকে পূর্বে নীলগঞ্জ সেতু, রাজারহাট, রূপদিয়া ও বসুন্দিয়া পর্যন্ত নদের বিভিন্ন অংশে একই দশা। এসব এলাকায় কচুরিপানা ও শেওলার সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা আটকে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
একসময় ভৈরব ছিল এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। নদে জাহাজ চলাচল করত। ছিল জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ। জবর দখল ও পলি জমে দীর্ঘদিন নদটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে ছিল। সরকারের টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কয়েক বছর আগে ভৈরব পুনঃখনন করা হয়।
পুনঃখননের পরও নদটি আগের রূপ ফিরে পায়নি। জোয়ার-ভাটার প্রবাহ স্বাভাবিক নয়। নদের বিভিন্ন অংশে শেওলা ও কচুরিপানায় পানি আছে কি নেই বোঝা দায়।
যশোর বাসির ভাষ্য, কচুরিপানা ও শেওলায় নদের পানিতে ছোট ছোট স্রোত বাঁধাগ্রস্থ। এর ফলে ময়লা-আবর্জনা এক জায়গায় জমে আছে। এতে পানির মান ক্রমে আরো খারাপ হচ্ছে। নদের দুই পাড়ের পরিবার গুলো গোসল, কাপড় পরিষ্কার কিংবা গৃহস্থালির কাজে পানি ব্যবহার থেকে বিরত। কৃষক সেচ কাজেও পানি ব্যবহার করতে পারছেনা। বড় হৈবতপুর গ্রামবাসি জানান, নদের পাড়ে অনেকের জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন এরা ভৈরবের পানি ফসল সেচ ব্যবহার করলেও এখন বন্ধ রেখেছেন। শেওলা ও কচুরিপানায় পানি আটকে ময়লা ও দূষিত ফলে নদের পানি সেচে ব্যবহার বন্ধ। এদের ভাষ্য, দূষিত পানি ফসলের জন্য ক্ষতিকর। পানি উন্নয়ন বোর্ড বিষয়টি গুরুত্ব দিলে সমস্যার সমাধান সম্ভব।
আব্দুলপুর গ্রামবাসি বলেন, ‘শেওলা ও কচুরিপানায় নদে ময়লা জমে আছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নেই। পানি নষ্ট। দ্রুত শেওলা, কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। চর্মরোগের ভয়ে এখন কেউ নদের পানিতে নামতে চান না। আগে মাঝে মাঝে নদে মাছ ধরতো গ্রামের মানুষ। বিগত কিছু দিন চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে এখন কেউ পানিতে নামেনা। একসময় ভৈরবের পানি স্বচ্ছ ও পরিষ্কার ছিল। নদে গোসল, কাপড় পরিষ্কার, এমনকি রান্নাবান্নার কাজেও পানি ব্যবহার হোত। প্রায় এক বছর ধরে শেওলা ও কচুরিপানা পরিষ্কার না করায় ময়লা জমে পানি এখন নষ্ট। এই পানি কোনো কাজে আসে না। বসুন্দিয়ার্দিয়ার বাসিন্দারা জানান, নদের পানিতে আগে পশু গোসল, মানুষের গোসল এবং কৃষিকাজে সেচ দেওয়া হতো। এখন কচুরিপানা, শেওলা ও ময়লা-আবর্জনায় পানি কালো ও নোংরা। এ পানি কোনো কাজে ব্যবহার করা যায় না। দ্রুত বিষয়টি দেখার জন্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুল সাদিক রাসেল বলেন, ‘চর্মরোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে ভৈরব নদের দুই পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে এ রোগের হার বেশি। দূষিত পানিতে গোসল করায় তারা বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগে আক্রান্ত হন। তবে নদে শেওলা ও কচুরিপানা জন্মানোর ভিন্ন ব্যাখ্যা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, ‘ভৈরবের পানি মিষ্টি। সে কারণে অতিরিক্ত শেওলা ও কচুরিপানা জন্মায়। লবণ পানিতে এগুলো জন্মায় না। ভৈরব নদে লবণ ছিটিয়ে দিলে এর জন্ম বন্ধ হবে। তবে পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নদে লবণ মেশানো সম্ভব নয়। শেওলা ও কচুরিপানা পরিষ্কারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বাজেট নেই। বিষয়টি উর্র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পরিষ্কারের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব।
যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার বলেন, ‘ভৈরব নদ, শেওলা ও কচুরিপানায় ভরে গেছে। এটি পরিষ্কারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Devoloped By WOOHOSTBD