পর্যটনকে নতুন রূপ দিতে ডিজিটাল এজেন্ডা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯ টায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) ও কুয়াকাটা পৌরসভার যৌথ আয়োজনে প্রায় ৩০টি সংগঠনের অংশগ্রহণে পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি কুয়াকাটা পর্যটন নগরীর মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে পর্যটন হলিডে হোমস চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
হলিডে হোমসের পর্যটন ইয়ুথ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আরিফুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এবিএমএম মোশাররফ হোসেন।
আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মহসিন তালুকদার, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ মুসুল্লি,মহিপুর থানা বিএনপি’র সভাপতি আঃ জলিল হাওলাদার, কুয়াকাটা পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার , যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ঘরামি, প্রেসিডেন্স পার্কের চেয়ারম্যান ও পৌর যুবদল সভাপতি ফারুক মীর, পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল আসাদুজ্জামান মিরাজ, কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফিন্যান্স সেক্রেটারি রাসেল খানসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া কুয়াকাটা হোটেল মোটেল এমপ্লেয়জ এসোসিয়েশন , কুয়াকাটা বয়েজ ক্লাব, ফিশ ফ্রাই সমিতি, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করে।
আলোচনা সভায় বক্তারা কুয়াকাটার পর্যটন উন্নয়ন, শৃঙ্খলা রক্ষা, পর্যটকদের সেবা ও নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন। এ সময় পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে এসব বিষয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এবিএম এম মোশাররফ হোসেন।
কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, পর্যটন কেবল মানুষ, স্থান ও সংস্কৃতিকে একে অপরের কাছাকাছি নিয়ে আসে না, বরং এটি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে, জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
তিনি বলেন, কুয়াকাটাতে পর্যটক ধরে রাখার জন্য আমরা ইতিমধ্যে একটি সাফারি পার্ক করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। পাশাপাশি সরকারও কুয়াকাটার প্রতি আন্তরিক। একনেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে কুয়াকাটাকে ভাঙ্গনের হাত থেকে যেমন রক্ষা যাবে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী হিসেবেও কুয়াকাটাকে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
Devoloped By WOOHOSTBD