যশোরের ঝিকরগাছা বারবাকপুর স্কুল পাড়ার শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাহার মোহনা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
প্রেসক্লাব যশোরে রবিবার মোজাম্মেল হোসেনের কন্যা মোহনা বলেন, তার পরিবার সন্ত্রাসী হামলা, জমি জবরদখল ও নানামুখী ষড়যন্ত্র ও অব্যাহত হয়রানির শিকার। ঝিকরগাছা থানার ওসি গোলাম কিবরিয়ার ইন্ধনে বারবাকপুরের আলোচিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বর্তমানে ভোল পাল্টে চলা নাজমুল আকরাম রকি ও তার কুচক্রী মহল তাদের জমি জবর দখল করেছে। মোহনার পরিবারের উপরে দফায় দফায় হামলা করে হত্যার চেষ্টা করছে। দফায় দফায় তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। কমপক্ষে ৮ টি অভিযোগ থানায়। অথচ থানার ওসি একটি অভিযোগেরও ব্যবস্থা নেয়নি। ঝিকরগাছা থানার ওসি গোলাম কিবরিয়ার দায়িত্ব কর্তব্যে অবহেলা ও আসামি পক্ষ নেওয়া ও এবং সন্ত্রাসী রকির মুখোশ উন্মোচন করতে এবং আমাদের সমস্যার প্রতিকার পেতে এই উদ্যোগ।
ইসমাইল বিশ্বাসের ছেলে নাজমুল আকরাম রকি হোসেন ও তার দোসরদের জবরদখল সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ও হামলায় অতিষ্ঠ পরিবারটি। মোহনার বাবা মোজাম্মেল হোসেন, মা নাসিমা বেগম ও জান্নাতুন নাহার মোহনা। তিন ভাই বোনের ও মোহনার জমি থেকে এক লাখ দশ হাজার টাকার গাছ কেটে নিয়ে জমি জবর দখল করেছে স্থানীয় যুবলীগের ক্যাডার নাজমুল আকরাম রকি গং। তারা বিক্রয় করা জমি বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো মিথ্যা অভিযোগ করেছে। আর কোর্টে মামলা চলমান অবস্থান যুবলীগের ক্যাডার সন্ত্রাসী এই নাজমুল আকরাম রকি ভয় দেখাচ্ছে কোর্টের কাজে বা অন্য কোন ব্যাপারে যশোরে আসলে তার সৎমামা ও মামাতো ভাইদের দিয়ে মেরে ফেলবে। বারবাকপুর স্কুল পাড়ার আলোচিত যুবলীগের ক্যাডার আওয়ামী ফ্যাসিস্ট রকির অত্যাচারে ১৭ বছর স্কুল পাড়ার বিএনপির নেতা কর্মীরা ঘরে থাকতে পারেনি। মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে জেল খাটিয়েছে, অনেকের জমি দখল করে বিক্রি করে খেয়েছে এই যুবলীগের ক্যাডার নাজমুল আকরাম রকি। এছাড়া মোহনার দাদার নামীয় চার বিঘা জমি প্রতারণা ও তঞ্চকতা করে ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে ভোগদখল করছে রকির বাবা। অতিরিক্ত চার বিঘা জমি জবর দখলে রাখার বিষয়ে বসাবসি করতে চাইলে হুমকি দিয়ে চলেছে এই রকি চক্র।
নাজমুল রকি ও তার সন্ত্রাসী চক্র ঝিকরগাছার বারবাকপুর মৌজায় ৩১৮ খতিয়ানের ৩১২৭নাম্বার দাগের নাসিমা বেগমের জমি জবরদখল করেছে। প্রশ্ন তোলায় গত ২৪ এপ্রিল রকি হোসেন, তার স্ত্রী তুলি বেগম (৩৬), ক্ষিপ্ত হয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে, কিল, ঘুাষ, চড়, থাপ্পড়, লাথি শুরু করে। মায়ের ডাক চিৎকারে আমি ও আমার বাবা মোজাম্মেল হোসেন ঠেকাতে আসলে আমাদেরকে মারপিট করে রকি গং। আমার মাথায় আঘাত করাসহ মাটি ফেলে গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করে। ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে পরিনাম খুব খারাপ হবে ও বড় ধরণের ক্ষতি সাধন করিবে বলে হুমকি দেয় রকি হোসেন গং। স্থানীয়রা মোহনাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ঐ হামলা ও হত্যা চেষ্টা ঘটনায় থানায় তিনটি অভিযোগ করলেও ব্যবস্থা নেননি থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া। অভিযুক্ত নাজমুল আকরাম রকির পক্ষ নিয়ে উল্টো হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বৈধ কাগজপত্র এবং আদালতে মামলা চলা অবস্থায সকল নির্দেশনা উপেক্ষা করে নাজমুল আকরাম রকি, আরিফ হোসেন, রকির স্ত্রী বহুরূপী তুলী খাতুনসহ তাদের অজ্ঞাত ভাড়াটে লোকজন ফের হামলা করে গত ১০ মে। বারবাকপুর মৌজার খতিয়ান ৩১৮, ৩১২৭দাগের ৬৬ শতক জমির মধ্যে ১৬ শতক জমি হেবা সূত্রে প্রাপ্ত হন নাসিমা বেগম। এ বিষয়ে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা চলমান। মামলা নং-পি-১৩০/২৬। নালীশি জমিতে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা জারি ১৪৪ ধারা করা আছে। আদালতে নিষেধাজ্ঞামা অমান্য করে ১০ মে দুপুর আনুমানিক ২টায় নালিশী জমির ৮ টি বড় বড় মেহগুনি গাছ, কয়েকটি সদ্য রোপন করা লম্বু গাছ ও কয়েকটি ডুব গাছ কেটে নিয়ে যায়। ৰাধা দিলে বিবাদীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেয়। এস আই কামাল ও এসআই হোসাইনকে দায়িত্ব দিলেও মোটা অংকের টাকা ঘুষ গ্রহণ করে রকির পক্ষ নিয়ে ফিরে আসে তারা। এমনকি রকি ও তার লোকজন এলাকায় বীর দর্পে বলে বেড়াচ্ছে হামলা হত্যা চেষ্টা, জমি দখল এমনকি হত্যা করলেও তার পক্ষেই থাকবে থানা পুলিশ এবং ওসি। ১০ লাখ টাকা মেরেছি বলেও বীর দর্পে বলছে এলাকায়। তোদের হাত পা কেটে ফেলে রাখলেও ওসি আমাকে কিছুই বলবে না এমনটিও প্রচার করছে রকি।
মোহনাদের উপ গত ১৯, ২১ ও ৩০ জুলাই নাজমুল আকরাম রকি ও তুলি খাতুন চক্র ফের ৩ দফা হামলা করে। জমিতে অনাধিকার প্রবেশ করে ১ লাখ ১০ হাজার টাকার গাছ কেটে নিয়ে যায়।
এখানেই শেষ নয় এই নাজমুল আকরাম রকি গং শুধু হামলা মামলা জবর দখলেই যে লিপ্ত নয়, স্থানীয় এক ব্যক্তির ঘেরের বিষ প্রয়োগ করেও উল্লাস প্রকাশ করেছে। বারবাকপুরের দুলাল উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে জিয়াউর উর রহমানের মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে। পরসম্পদ লোভী রকি গং গত ১৬ মে দিবাগত রাত ২ টা থেকে রাত আনুমানিক সাড়ে ৪ টার মধ্যবর্তী যেকোন সময় ঐ ঘেরে মাছ মারার বিষ প্রয়োগ করে ছোট-বড় আনুমানিক ৪০ মন মাছ মেরে নষ্ট করে। যার বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে জিয়াউর রহমান নাজমুল আকরাম রকি চক্রের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিলেও অদ্যবধি কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন মোহনার বাবা মোজাম্মেল হোসেন, মা নাসিমা বেগম, ভাই জিয়াউর রহমান, নানী মমতাজ বেগম, চাচা বজলুর রহমান, খালু আমীর হোসেন প্রমুখ।
Devoloped By WOOHOSTBD