বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি ঃ
বটিয়াঘাটা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে দলিল লেখক সমিতির কিছু নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় কৃত্রিম সমস্যা সৃষ্টি করে চলেছে ডিজিটাল স্টাইলে ঘুষ ও দুর্নীতি ও অনিয়ম । যা দেখার কেউ নেই । খুলনা বিভাগের বিভিন্ন সাব- রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদক অভিযান পরিচালনা করলেও খুলনা বিভাগের সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের প্রতিষ্ঠান বটিয়াঘাটা সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে । এতে এ উপজেলার মানুষ হতবাক ও বিস্মিত হয় । সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে দেখা গেছে, বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কিছু দলিল লেখক সমিতির নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় কৃত্রিম সমস্যা সৃষ্টি করে দুর্নীতির মাধ্যমে দু-তরফা ঘুষ আদায় করা হয়। সাব-রেজিস্ট্রার অঞ্জু দাস সকল দলিল জমা হবার পর তার ব্যক্তিগত খাস কামরায় নিয়ে যাচাই বাছাইয়ের নামে কৃত্রিম সমস্যা সৃষ্টি করে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্য করে চলেছে। আর ওই সকল দলিল লেখক কিছু নেতাদের কারনে সাধারণ দলিল লেখকরা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত ও অপমানিত । যে সকল বিষয়ে ঘুষ আদায় করা হয়, তা হলো, খতিয়ানে অথবা দাগে ভিপি, এক দলিলে একাধিক খতিয়ান, জীবনীশর্তে, প্রতিবন্ধী , অসুস্থ ব্যক্তি, ফিফটি-থ্রি সহ বিভিন্ন বিষয়ে এ সকল বিষয়ে ঘুষ আদায় করা হয় । আর ঘুষ আদায়ের জন্য রয়েছে দলিল লেখক সমিতির কিছু নেতা ও নকল-নবীশ সমিতির কিছু সদস্য । এছাড়াও অফিস প্রধান বড় বাবু অর্থাৎ পেশকার আলাদা ঘুষ আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে । এব্যাপারে ভূক্তভোগী বটিয়াঘাটা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিক নিরু এ প্রতিবেদককে বলেন, আইনে কোথাও নেই জীবনী শর্তের জমি ক্রয় বিক্রয় করা যাবে না । অথচ জীবনী শর্তের জমি ক্রয়-বিক্রয় বর্তমান সাব -রেজিস্ট্রার অঞ্জু দাস ঘুষ দাবি করে প্রথমে দলিল ফেরত দেয় । পরবর্তীতে দলিল লেখক সমিতির কিছু নেতা ও তার নিয়োগপ্রাপ্ত ঘুষ আদায়কাররী ঘুষের গ্ৰীনসিগনাল দিলে খাস কামরায় দলিল রেজিস্ট্রি হয় । তিনি বলেন, আমার একটি জীবনী শর্তের দলিল রেজিস্ট্রি করতে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে । আমি বাধ্য হয়ে ৫০ হাজার ঘুষ পরিশোধ করে দলিল করতে বাধ্য হই । এসএ জরিপে একটি খতিয়ানে আংশিক ভিপি তালিকাভূক্ত থাকলেও পরবর্তীতে বিচার বিআরএস জরিপে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গ্ৰেজেডে রেকর্ড প্রকাশিত হলেও এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক ভিপি জমি স্কেস ম্যাপের মাধ্যমে পৃথক করে ব্যক্তি নামে রেকর্ড দিলেও সাব-রেজিষ্টার অঞ্জু দাস ওই সব আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভিপি আছে বলে মোটা অংকের ঘুষ আদায় করার একাধিক অভিযোগ উঠেছে । এব্যাপারে সাব- রেজিস্ট্রার অঞ্জু দাস এর কাছে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, সাব-রেজিষ্টার এর
বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয় এবং আমাকে হাজিরা দিতে হয় । আমি একটি দলিল রেজিস্ট্রি করে তা বাতিল করতে পারি না । কিন্তু সহকারী কমিশনার (ভূমি) ১৪৩ ধারায় রেকর্ড দিয়ে বিপদ হলে ১৫০ ধারায় রেকর্ড বাতিল করে দিতে পারে । কিন্তু সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেকর্ড বাতিল করলেও আমার ক্ষেত্রে দলিল বাতিল করা কোন সুযোগ নেই । এতে একদিকে যেমন দলিল রেজিস্ট্রি কম হয়ে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি সাধারণ ক্রেতা- বিক্রেতারা হচ্ছেন ক্ষতির সম্মুখীন । এব্যাপারে এলাকাবাসী দুদক সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ।
Devoloped By WOOHOSTBD