সন্ত্রাস মাদক দ্রব্য সহ বিভিন্ন আইন বিরোধী র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র্যাব সৃষ্টিকাল থেকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, খুনী, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারসহ- ডাকাত, ছিনতাইকারী, অপহরণকারী, প্রতারক ও হত্যাকান্ডের অপরাধে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও সাম্প্রতিককালে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে র্যাব জনগণের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানী, কোরবানপুর ও শান্তিনগর এলাকায় রাসেল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী ও সহিংস সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা করে আসত। পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানী ও আশপাশের এলাকায় নতুন গড়ে ওঠা শিল্পকারখানা, ড্রেজিং ও আবাসন প্রকল্পগুলোতে আধিপত্য বিস্তারের মূল চেষ্টা থাকত এই বাহিনীর। ইট, বালু সরবরাহ, স্ক্র্যাপ বা ঝুট ব্যবসা এবং নির্মাণকাজের একক নিয়ন্ত্রণ নিতে স্থানীয় ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করতো তারা। নদী পথে চাঁদাবাজি মাদক দ্রব্য পাচার এবং এলাকায় বিশৃঙ্খলা তাত্র কায়েম করে রাসেল অভিযোগ এলাকা বাসীর। এলাকায় ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য এ বাহিনী প্রকাশ্যে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, টেঁটা, হকিস্টিক নিয়ে মহড়া দিয়ে আসত। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সাথে প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি চালানো, টেঁটাবিদ্ধ করে আহত করা এবং বাড়িঘরে হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে ইতোমধ্যে। এছাড়া মাদক বা সন্ত্রাস সংক্রান্ত অপরাধের সংবাদ প্রকাশ করলে স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে গুরুত্বর আহত করার মত ঘটনাও রয়েছে এ বাহিনীর ।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী রাসেল ও তার সহযোগীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। গত শুক্রবার ২৪ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত ১২:১০ ঘটিকার সময় র্যাব-১১, সিপিএসসি এবং র্যাব-২ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানাধীন পান্থপথ এলাকা হতে শীর্ষ সন্ত্রাসী রাসেল আহমেদ,পিতা-মৃত-সাফাতুল্লা, সাং- কুরবানপুর, ইউ/ পি- পিরোজপুর, থানা- সোনারগাঁও, জেলা- নারায়নগঞ্জকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে আসামির দেওয়া তথ্য মতে, সকাল ০৫:৩০ ঘটিকার সময় সোনারগাঁওয়ের কুরবানপুরের আসামির বসতবাড়ির পশ্চিম পাশে অবস্থিত একটি গোডাউনে ভিতর থেকে ০১টি দেশীয় শটগান , ০৪ রাউন্ড গুলি, ১৪ টি টেটা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও এবং ঢাকার বিভিন্ন থানায় অন্তত ১২ টি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সোনারগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে থানা পুলিশ হেফাজতে আইন অনুযায়ী আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা যায়।
Devoloped By WOOHOSTBD