চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম এর নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও রাউজান থানা পুলিশের কার্যকর ও সমন্বিত অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. রাত আনুমানিক ০৩:২৫ ঘটিকায় রাউজান থানা পুলিশের একটি টহল দল রাত্রিকালীন স্পেশাল-৮ ডিউটিতে দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, রাউজান থানাধীন কদলপুর ইউনিয়নের ০১নং ওয়ার্ডের মীর বাগিচা মুনিরিয়া যুব তাবলিক নির্মাণাধীন মাদ্রাসার সামনে একদল ব্যক্তি ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছে।
সংবাদ পাওয়ার পর বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে রাউজান থানা পুলিশের টহল দল এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার-ফোর্সের সমন্বয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের তাৎক্ষণিক উপস্থিতি ও সমন্বিত অভিযানের ফলে ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়: ১। মোঃ শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ (৩০), পিতা-বদিউল আলম, সাং-শাওয়াল খলিফার বাড়ি, রাউজান, চট্টগ্রাম ২। মোঃ জাফর (৩৮), পিতা-মোঃ মুসা, সাং-পূর্ব রাউজান, রাউজান, চট্টগ্রাম ও ৩। মোঃ সাফায়েত হোসেন সিফাত (১৯), পিতা-মোঃ সেলিম উদ্দিন, সাং-পূর্ব রাউজান, রাউজান, চট্টগ্রাম।
গ্রেপ্তারকৃতদের তল্লাশি করে তাদের হেফাজত থেকে ০১টি দেশীয় তৈরি এলজি, ০২টি সীসা কার্তুজ, ০১টি রামদা ও ০১টি ছোরা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মোঃ শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ ও মোঃ জাফর শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তার নির্দেশনায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিল। তারা রায়হানের নির্দেশে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর নিকট থেকে চাঁদা আদায়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং বালু উত্তোলন থেকে প্রাপ্ত অর্থ সংগ্রহ করে রায়হানের কাছে পৌঁছে দিত বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। এছাড়া এলাকায় রায়হানের প্রভাব বিস্তার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় তারা সহযোগী হিসেবে কাজ করত বলেও তথ্য পাওয়া যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত মোঃ সাফায়েত হোসেন সিফাত রায়হানের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিয়ে তার সহযোগীদের নিয়ে রাউজানে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করত। রায়হানের নির্দেশনা ও আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা এবং রায়হানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করত ।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে রায়হানের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় পরিচালিত এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং অধিকতর তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে রায়হানের সহযোগী হিসেবে কাজ করা অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণপূর্বক সমবেত হওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র-শস্ত্র নিজ হেফাজতে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে।
Devoloped By WOOHOSTBD