• মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
যশোর শামস উল হুদা মাঠে ফুটবল ও স্বপ্ন পাঠশালা বন্দরে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ ‍কুখ্যাত সন্ত্রাসী মোঃ মতিউর রহমান জনি ওরফে ব্লাক জনি (৩৯) ও তার ১ জন সহযোগী গ্রেফতার যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ কর্তৃক পেটের ভিতর রক্ষিত ২০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট বিশেষ কায়দায় বের করে ০৩ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার রাউজানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ রায়হানের ৩ সহযোগী গ্রেপ্তার অভিযোগের মুখে নিয়ামতপুরের এসিল্যান্ড রেজাউল প্রত্যাহার ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম-দুর্নীতি ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ; দুদক অনুসন্ধানের দাবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান লালপুরে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে ৪ জন আটক, ২ ড্রাম ট্রাক জব্দ চাঁপাইনবাবগঞ্জে অপহরণ করে জোরপূর্বক জমি রেজিস্ট্রি: ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন সীতাকুণ্ডে লোকবল সংকটে উপজেলা সমাজসেবা দপ্তর।।নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ছে নিবন্ধিত সংগঠন গুলি

অভিযোগের মুখে নিয়ামতপুরের এসিল্যান্ড রেজাউল প্রত্যাহার ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম-দুর্নীতি ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ; দুদক অনুসন্ধানের দাবি

Montu Rahman / ৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নওগাঁ প্রতিনিধি

ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম-দুর্নীতি, আদালতের আদেশ অমান্য, ফৌজদারি মামলার আসামিকে বেআইনি সুবিধা দেওয়া এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগের মধ্যে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজাউল করিমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁকে পরবর্তী পদায়নের জন্য রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব মো. বরমান হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ বদলি আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে ভূমি ব্যবস্থাপনা, সরকারি জলমহাল ইজারা ও খাস কালেকশন, আদালতে বিচারাধীন বিষয় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, রাসুলপুর-পাঁড়ইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মাহবুব আলম একটি ফৌজদারি মামলায় (সিআর ৮২৪/২০২৩, মান্দা) প্রায় এক সপ্তাহ কারাগারে ছিলেন। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি জানার পরও তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তাঁকে দায়িত্বে বহাল রাখা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মাহবুব আলমের মাধ্যমে নামজারি ও খাজনা আদায়ে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এ কাজে বিজয় মহন্ত নামে এক বহিরাগত ব্যক্তি জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া সরকারি খাস জলমহাল ও পুকুর ইজারা এবং খাস কালেকশন নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কার্যক্রমে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে এবং বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

নিয়ামতপুর উপজেলার বনগাঁপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আতাহার আলী এসব অভিযোগে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁর অভিযোগে ফৌজদারি মামলার আসামিকে সুবিধা দেওয়া এবং ভূমি অফিসের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন একটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রেও এসিল্যান্ড রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি হাইকোর্টে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিবিধ মামলায় আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আব্দুল কাইউম নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এ ছাড়া সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগও করা হয়েছে রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি একটি পক্ষের হয়ে কাজ করেছেন এবং নিয়ামতপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ সরিয়ে ফেলতে নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এর পাশাপাশি প্রায় তিন হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দের পর এর একটি অংশ গোপনে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগেও জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্তের আবেদন করা হয়েছিল বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ ও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রেজাউল করিমের দায়িত্ব পালনকালের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও ভূমি-সংক্রান্ত কার্যক্রমের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের দাবিও উঠেছে।

তবে রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে তাঁকে প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপনেও অভিযোগগুলোর উল্লেখ নেই।

প্রত্যাহারের বিষয়ে মো. রেজাউল করিমের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Devoloped By WOOHOSTBD