লিখেছেন : জাহিদ হাসান
সমাজকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক
শহীদ ওসমান হাদী হত্যা মামলার পর কেটে গেছে উল্লেখযোগ্য সময়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ মামলায় গ্রেফতার করা হয়নি কাউকে। পুলিশের নথিতে সংখ্যাটি স্পষ্ট গ্রেফতার: শূন্য। এই শূন্যতা শুধু তদন্তের অগ্রগতির অভাব নয়, এটি আমাদের বিচারব্যবস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকারিতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
একটি হত্যা মামলা রাষ্ট্রের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়ার কথা। কারণ জীবন রক্ষার দায় রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু হাদীর ঘটনায় সেই দায়িত্ব কতটা যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে। মামলার পরপরই। তদন্ত চলছে এই বাক্যটি বারবার উচ্চারিত হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন এখনো দৃশ্যমান নয়।
হাদী কোনো পরিসংখ্যান নয়, কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়ও নয়। তিনি একজন নাগরিক, যার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল। তাঁর হত্যার পর যদি অপরাধীরা অধরা থেকেই যায়, তবে তা কেবল একটি পরিবারের শোক নয় পুরো সমাজের জন্য অশনিসংকেত।
অভিজ্ঞতা বলে, কোনো হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় ধরে গ্রেফতার না হলে তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। এতে অপরাধীরা সাহস পায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের ঝুঁকি আরও বাড়ে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি কখনোই একটি সভ্য সমাজের জন্য ইতিবাচক হতে পারে না।
হাদীর পরিবার আজ বিচারের অপেক্ষায়। কিন্তু এই অপেক্ষা কত দীর্ঘ হবে, তার কোনো স্পষ্ট জবাব নেই। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ করা হলে জনগণের আস্থা কিছুটা হলেও ফিরে আসতে পারে। অন্যথায় নীরবতা সন্দেহকে আরও গভীর করবে।
রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকের প্রত্যাশা খুব বেশি নয় শুধু ন্যায়বিচার। হাদী হত্যা মামলায় দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা এখন সময়ের দাবি। এতে শুধু একটি পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না, বরং সমাজে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
হাদীর হত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে প্রশ্ন থেকেই যাবে এই দেশে একজন সাধারণ নাগরিক কতটা নিরাপদ? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, আর সেই উত্তর আসতে হবে কথায় নয়, কার্যকর পদক্ষেপে।