ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের সুনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ওলি নামের এক শিক্ষক এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়মিত ক্লাস না করায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিনি ২৫ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত টানা ছয় দিন কোনো ছুটি না মঞ্জুর করিয়েই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জানান, “তিনি আমাকে কিছুই জানাননি। পরে তিন দিনের মৌখিক ছুটির আবেদন করলেও তিনি ছয় দিন অনুপস্থিত আছেন। এছাড়া তিনি সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত ক্লাস নেন, এরপর আর কোনো ক্লাস পড়ান না।” প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য, নিয়মিত ক্লাস কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ, শিক্ষকতা পেশার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় দিতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। নিজ গ্রামের বিদ্যালয়ে পোস্টিং পেয়েও নিয়মিত ক্লাসের চেয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সেমিনারেই তাকে বেশি দেখা যায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ওলির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, “আমি ঢাকায় চিকিৎসায় এসেছি। তোমরা সাংবাদিকদের কোনো কাজ নেই, মাঠে গিয়ে ফসলি জমিতে কাজ করো। ৫০০-৬০০ টাকার সাংবাদিক আমার সাথে লাগতে আইসো না।” তিনি দাবি করেন, প্রধান শিক্ষককে ছুটির কথা জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, “স্যার একদিন আসলে দুইদিন আসেন না। যেদিন আসেন না, সেদিন ওনার ক্লাস নেওয়া হয় না।”
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) দীন মোহাম্মদ বলেন, “পূর্বেও ওলির অনিয়মের কারণে ডিপিও বরাবর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে সর্বশেষ ছয় দিন অনুপস্থিতির ঘটনায় নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার নানা প্রকল্প হাতে নিলেও ‘অসৎ শিক্ষকদের’ কারণে কতটুকু উন্নতি সম্ভব—এখন প্রশ্ন উঠেছে এলাকাবাসীর মনে।
Devoloped By WOOHOSTBD