তারিখ: শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫ | স্থান: সাতমাথা, বগুড়া
বগুড়ায় প্রাণীর উপর নির্যাতন ও হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন “তীর” মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে আদমদীঘি থানায় এক গর্ভবতী বিড়ালকে গলা কেটে হত্যার নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে পথ প্রাণী, পোষা প্রাণী ও বন্যপ্রাণীর উপর চলমান নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে শনিবার সকালে বগুড়া সাতমাথা চত্বরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে “তীর”-এর সদস্যরা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রাণী সুরক্ষার দাবিতে বিভিন্ন প্লেকার্ড ও পোস্টার হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানায়। এসময় বক্তারা প্রাণী সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান এবং সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন।
সংগঠনের সভাপতি আশা মনি বলেন,
> “অকারণে নিষ্ঠুরভাবে কুকুর, বিড়ালসহ যেকোনো প্রাণীকে নির্যাতন বা হত্যা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ‘প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯’-এর ধারা ৭ ও ৮ অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রাণীকে কষ্ট দেওয়া বা হত্যা করলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে, এবং পুনরায় অপরাধ করলে ১ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। এছাড়া সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮(১)-এ রাষ্ট্রকে প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
সহ-সভাপতি হৈমন্তী সরকার বলেন,
> “প্রাণীরাও প্রকৃতির অংশ। তাদের প্রতি সহানুভূতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। সাম্প্রতিক সময়ে প্রাণী নির্যাতনের যে প্রবণতা বেড়েছে, তা মানবিকতা ও পরিবেশ উভয়ের জন্য হুমকি।”
সাধারণ সম্পাদক মোঃ মেহেদী হাসান বলেন,
> “প্রত্যেক নাগরিকের উচিত প্রাণীর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া। পাশাপাশি আইন প্রয়োগে কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।”
সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নূর ইসলাম জানান,
> “তীর ভবিষ্যতেও প্রাণী সুরক্ষা, পরিবেশ সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাবে।”
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (তীর)’ ২০১১ সাল থেকে জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। সংগঠনটি ২০২১ সালে “বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার” লাভ করে।
Devoloped By WOOHOSTBD