পুলিশের ভয় দেখিয়ে গৃহবধূ পাখি বেগমের নিকট থেকে চুরির রুপার গহনা উদ্ধার করে আলম সন্নমত আত্মসাত করেছে মর্মে যে সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন মহিপুর সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আলম সন্নমত।
গত ২৯(সেপ্টেম্বর) সোমবার দিবাগত গভীর রাতে মহিপুর থানা শহরের সদর রোডের স্বর্নকার পট্রি ” মিঠুন গিনী হাউস ” দোকানের সার্টারের তালা ভেঙ্গে রুপার গহনা চুরি হয়।এ চুরির প্রেক্ষিতে মহিপুর থানা পুলিশের একটি টিম গত মঙ্গলবার ৩০(সেপ্টেম্বর) রাত ১২ টা থেকে বুধবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মহিপুর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রাম থেকে চোর রেজাউল কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় এবং তার নিকট হতে প্রায় ৩৫ ভরি রৌপ্য গহনা পুলিশ উদ্ধার করে।চোর রেজাউলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাকে নিয়ে অপর চোর ফয়সাল বাবু কে গ্রেফতার করার জন্য মহিপুর ইউনিয়নের মোয়াজ্জেমপুর গ্রামে বুধবার গভীর রাতে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চোর ফয়সাল বাবু বাড়ির জানালা ভেঙ্গে পালিয়ে যায়।ঐ বাড়ির পুরুষ মৌজেআলী পুলিশ কে জানায় অভিযুক্ত চোর ফয়সাল বাবু তার মেয়ের জামাই এবং সে পেশাদার চোর। পরবর্তীতে চোর ফয়সাল বাবু কে গ্রেফতার করার জন্য তার শশুর মৌজেআলী ,স্ত্রী জোৎস্না স্থানীয় আয়ুব আলী আকন, আলম সন্নমত সহ কয়েকজন গ্রামবাসী পুলিশ কে সহযোগিতা করেন।চোর ফয়সাল বাবুর স্ত্রী, তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কুয়াকাটার দোখাসীপাড়া হতে চোর ফয়সাল বাবু কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। চোর ফয়সাল বাবুর নিকট থেকে কিছু রুপার গহনা উদ্ধার করে এবং সে জানায় বিভিন্ন স্থানে কিছু রুপার গহনা বিক্রি করছে।এ প্রতিবেদকের নিকট চোর ফয়সাল বাবুর শশুর মৌজেআলী বলেন,পরের দিন আলম সন্নমত মৌজেআলীর বাড়িতে এসে বলেন আপনার নাতি পাখি চুরি যাওয়া রুপার গহনা চোর ফয়সাল বাবুর নিকট থেকে ক্রয় করেছেন এবং সেগুলো থানায় জমা দিবেন অন্যথায় আপনারা দোষী সাব্যস্ত হবেন।তাৎক্ষণিক মৌজেআলী তার নাতি পাখি কে ডেকে এনে রুপার গহনা ক্রয়ের সত্যতা নিশ্চিত হন।তার মধ্যে ছিল ছোট দুটি রুপার চুরি ও একটি রুপার চেইন।এ পর্যায়ে মৌজেআলী বলেন,আলম তুমি এই রুপার গহনা গুলো যা পাখির কাছে আছে সেগুলো থানায় নিয়ে যাও।মৌজেআলীর ভাষ্যমতে আলম সন্নমত নিজে গ্রহণ না করে মৌজেআলী , তার সন্তান ও তার নাতি পাখি কে চুরির রুপা সহ থানায় যেতে বলেন। কিন্তু তারা ভয়ে থানায় যেতে রাজি না হওয়ায় আলম তখন আয়ুব আলী কে ফোন করে এ বিষয়ে অবহিত করেন। আয়ুব আলী উদ্ধারকৃত রুপার ছোট দুটি চুরি ও একটি রুপার চেইন আলম কে থানায় নিয়ে আসার জন্য বলেন। আয়ুব আলীর কথা অনুযায়ী আলম রুপার গহনা গুলো নিয়ে এসে আয়ুব আলীর নিকট জমা দেন। এরপর আয়ুব আলীর ভাষ্যমতে উদ্ধারকৃত রুপার ছোট দুটি চুরি ও একটি রুপার চেইন থানায় জমা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মৌজেআলী বলেন, আমার জামাই চোর ফয়সাল বাবু কে ধরার জন্য আমি মোটরসাইকেল ভাড়া ও দুপুরের খাবারের জন্য দুই হাজার পাঁচ শত টাকা দিয়েছি। পাখির নিকট ভয় দেখিয়ে আলম সন্নমত কোনো টাকা গ্রহণ করে নাই।এ প্রতিবেদক মৌজেআলীর বক্তব্যের একটি ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষণ করেন। এ প্রতিবেদক গতকাল রোববার রাত ৯ টার পর মহিপুর থানায় গিয়ে রুপার চুরির মামলার তদন্ত কাজে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আবু হানিফ এর নিকট আয়ুব আলীর জমা দেওয়া রুপার গহনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রুপার ছোট দুটি চুরি ও একটি রুপার চেইন আয়ুব আলী আমার নিকট জমা দিয়েছেন যাহা জব্দ মালামাল ও রুপার সাথে সংযুক্ত আছে।
এ বিষয়ে আলম সন্নমত বলেন,গৃহবধূ পাখির নিকট থেকে উদ্ধারকৃত রুপার গহনা থানায় জমা দেওয়া হয়েছে এবং গৃহবধূ পাখির নিকট থেকে আমি কোনো ধরনের টাকা বা উপঢৌকন গ্রহণ করিনি। একটি মহল আমার ব্যক্তিগত চরিত্র ও আমার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাকে আক্রমন করছে এবং আমার রাজনৈতিক দল কে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আমি এ মিথ্যা কুরুচিপূর্ণ অপবাদের প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানাই এবং যে সকল পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তার সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির মাধ্যমে সংশোধনী সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ করার অনুরোধ জানাই।
Devoloped By WOOHOSTBD