দেশের প্রাকৃতিক দূর্যোগের সঙ্গে মোকাবিলা করে বিভিন্ন প্রকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা নিয়ে অগ্রগতি ভূমিকা রাখছে সোনারগাঁ পরিবেশ রক্ষা উন্নয়ন সোসাইটি। সোনারগাঁওয়ে শিয়াল উদ্ধারে বন বিভাগের অভিযান পরিচালনা করে এতে সহযোগিতা করে পরিবেশ রক্ষা উন্নয়ন সোসাইটির অন্যতম মুহাম্মদ হোসাইন। নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার ১০ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভার নিয়ে গঠিত বৃহৎ উপজেলা পরিষদে বহু প্রকার সমস্যা রয়েছে । বন পশু পাখি তার মধ্যে হিংস্র প্রাণী রয়েছে শিয়াল কুকুর বিড়াল সাপ সহ বিভিন্ন প্রকার বিষাক্ত সব প্রাণী।
সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় লোকালয়ে বিচরণ কারী হিংস্র ও অসুস্থ শিয়াল উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করেছে বন বিভাগ। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত শিয়ালকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতি পূর্বে পরিবেশ রক্ষা উন্নয়ন সোসাইটি সোনারগাঁ শাখার উদ্যোগকে কুকুরকে ভ্যাকসিন ও সাপের মতো বিষাক্তনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় মাগো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মধ্যে।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সোনারগাঁও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বন বিভাগের উদ্যোগে সনমান্দী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল লোকালয়ে ঢুকে পড়া শিয়ালগুলোকে নিরাপদে উদ্ধার করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করা। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ইউনিয়নের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁও বন কর্মকর্তা আবু মুন্না, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আস সিদ্দীক, পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোঃ হোসাইনসহ বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
এ সময় বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, খাদ্যের সংকট, প্রাকৃতিক আবাসস্থল নষ্ট হওয়া এবং মানুষের বসতি সম্প্রসারণের কারণে ও বন্যার কারণে পানি বৃদ্ধির দরুন শিয়ালসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে। এতে একদিকে যেমন মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বন্যপ্রাণীরাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। তাই শিয়ালকে হত্যা বা পিটিয়ে না মেরে বন বিভাগকে খবর দেওয়ার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে সনমান্দী ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও মানুষের নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হবে। লিফলেটের মাধ্যমে শিয়াল বা অন্য কোনো বন্যপ্রাণী লোকালয়ে প্রবেশ করলে কী করণীয় এবং কীভাবে নিরাপদে বন বিভাগকে খবর দিতে হবে—সে বিষয়ে মানুষকে জানানো হবে।
পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোঃ হোসাইন বলেন, “শিয়াল আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্যপ্রাণী রক্ষায় আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। কোনো বন্যপ্রাণী লোকালয়ে এলে তাকে হত্যা না করে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগকে খবর দিতে হবে।”
বন বিভাগের এ ধরনের অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে একদিকে যেমন স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কমবে, অন্যদিকে শিয়ালসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
Devoloped By WOOHOSTBD