মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যের শেল্টারদাতা ও প্রভাবশালীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি করেন এলাকাবাসী।
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই সহোদর মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলার র্যাব-১১।
উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ ও দীর্ঘদিনের কার্যক্রম ইঙ্গিত দিচ্ছে এই চক্রের পেছনে রয়েছে শক্তিশালী একটি মাদক সিন্ডিকেট, যাদের শেল্টার ও পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এমন কারবার সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
র্যাব-১১, সিপিএসসি, নারায়ণগঞ্জ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ৯ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ৩:৩০ ঘটিকার সময় নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন ভূলতা ইউনিয়নের পাড়াগাঁও মধ্যপাড়া গ্রামস্থ আসামিদের বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে মোঃ নিঘুম (৩০) ও মোঃ ইমন (২৮) নামের দুই সহোদর মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তাদের হেফাজত হতে ৬,৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যা স্থানীয়ভাবে মাদক ব্যবসার ভয়াবহতা ও বিস্তৃত নেটওয়ার্কের স্পষ্ট প্রমাণ।
দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল মাদক সিন্ডিকেট-
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত দুই ভাই পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা হতে ইয়াবা ও গাঁজা সংগ্রহ করে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রি করে আসছিল।
তাদের এই কার্যক্রম এতদিন কীভাবে নির্বিঘ্নে চলছিল
এ প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয় অনুযায়ী:
পিতা: মৃত আনোয়ার আলী
মাতা: মোসাঃ আয়েশা বেগম
সাং: পাড়াগাঁও মধ্যপাড়া
ইউপি: ভূলতা
থানা: রূপগঞ্জ
জেলা: নারায়ণগঞ্জ
শেল্টারদাতা কারা? প্রশাসনের কঠোর তদন্ত দাবি:
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল মনে করছেন, এত বিপুল পরিমাণ মাদক ব্যবসা কোনো প্রভাবশালী শেল্টার ছাড়া পরিচালনা করা অসম্ভব।
ফলে প্রশ্ন উঠেছে-
কারা এই মাদক কারবারিদের আশ্রয় দিচ্ছিল?
কোন প্রভাবশালী মহল বা রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থেকে এদের রক্ষা করা হচ্ছিল কি না?
স্থানীয়ভাবে কার ইশারা ও ছত্রছায়ায় এই মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল?
এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা র্যাব-১১, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ডিবি ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে, যেন গ্রেফতারেই দায়িত্ব শেষ না করে মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের, শেল্টারদাতা, অর্থের যোগানদাতা এবং পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়।
যদি কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতা বা ক্ষমতাসীন মহলের কেউ এই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তাকেও দল-মত নির্বিশেষে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
র্যাব-১১ সূত্র জানায়, মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মাদকমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়তে শুধু গ্রেফতার নয়, শেকড় পর্যন্ত উপড়ে ফেলার কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করা হয়। অপর দিকে জেলার সোনারগাঁও থানা পুলিশ তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার সহ একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। জানা যায় অভিনব কৌশল অবলম্বন করে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ভিতরে করে গাঁজা পাচার কালে সোনারগাঁও থানা পুলিশের নিকট আটক হয়।
Devoloped By WOOHOSTBD