• বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কালিয়াকৈরে ঝুলন্ত অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা কর্তৃক সোনারগাঁও থানা এলাকার কুখ্যাত ডাকাত মোঃ সাদ্দাম গ্রেফতার বদলগাছীতে পেয়ারা গাছ থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার সুনামগঞ্জ শহরে  অজ্ঞাত ব্যাক্তির গলিত দুর্গন্ধ  মরাদেহ নিজ হাতে উদ্ধার করলেন ওসি রতন সেখ (পিপিএম) মামলা করতে এসে গ্রেফতার হলো ছাত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জে শ্রমিকদের দক্ষতা ও শব্দ দূষণ বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ সরকারি মহিলা কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াত আমীর ডা. শফিকুল রহমানের নির্বাচনী জনসভা কিশোরগঞ্জে জামায়াত আমির: পঁচা রাজনীতি নয়,পরিবর্তন চায় যুবসমাজ বৈষম্যহীন এক দফা দাবি ৯ম পে-স্কেলের গেজেট জারির দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবস্থান ও বিক্ষোভ

ছোট গল্প: শেওলা

Muntu Rahman / ২৫৩ Time View
Update : বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫

লেখক : মো: আজমাঈন জিতু

বিকেল নামছে। আলো হারাতে হারাতে বারান্দার কোণটা যেন আরও একা হয়ে উঠেছে।
সেই কোণেই বসে আছে ফাতেমা— দুপুরের খাবারটা ঠান্ডা, মনটা তারও।

একটু দূরে চুপচাপ এসে বসলেন রিয়াদ দাদু।
তার কণ্ঠে কোন তাড়া নেই, যেন সময়কেই থামিয়ে বসে আছেন তিনি।

— “এই যে, ছোট পাখিটা একা কুণ্ডলি পাকিয়ে বসে আছে কেন?”
কণ্ঠে একরকম ছায়া মাখানো স্নেহ।

ফাতেমা মুখ ঘুরিয়ে বলে—
— “ভালো লাগে না দাদু… কারো হাসি, কারো গল্প, কিছুই না।”

রিয়াদ একটু চুপ করে থাকেন। তারপর হালকা হাসেন।
এই হেসে ওঠা—শুধু ঠোঁটের কাজ, চোখের নয়।

— “তুই নিমুর নাম শুনেছিস?”

ফাতেমার চোখ ওঠে।
— “রোশনি ফুফি? সেই যে তুমি বলেছিলে, তোমার ক্লাসমেট?”

— “হ্যাঁ, বান্ধবী ছিল, অথচ সম্পর্কটা ছিল রক্তহীন আত্মীয়তার মতো।
যেন রক্ত না মিশলেও হৃদপিণ্ড একটাই ছিল।”

একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস…

— “ও ছিল নরম গলায় উচ্চারণ করা এক মেয়ের নাম—
যার চেহারায় সরলতা, কিন্তু চোখে ছিল শব্দহীন অভিমান।
আমরা একসাথে পড়তাম।
সেই প্রথম সেমিস্টারে রোশনি টপ করেছিল।”

রিয়াদ থামেন একটু। তারপর আবার বলেন—

— “সেদিন কলেজে করতালির শব্দ উঠেছিল,
আর ওর বুকের ভেতর উঠেছিল এক নিঃশব্দ দহন।
ও টপার হয়েছিল, আর সবার আগে ওর বাবাকে জানাতে চেয়েছিল—
যে মানুষটা প্রতিদিন বলত, ‘তুই একদিন শীর্ষে উঠবি।’
আজ সত্যি উঠে গেছিল সে।
কিন্তু… ফোন নম্বরটা তখন মৃত।
একটা ব্যস্ত টোন নেই, নেই কোনো রিংও।
শুধু বাতাসে ভেসে থাকা এক অপূর্ণতা।”

ফাতেমা কিছু না বলে তাকিয়ে ছিল।
তার চোখে অদ্ভুত কিছু ভাসছে—জানি না, জল না গল্প।

— “রোশনি বাড়ি ফিরে সার্টিফিকেটটা বাবার ছবি রেখে দেয়।
বলেও না কিছু…
তবে তার চোখে একটা রোদ্দুর ছিল—যেটা সেদিন ডুবে যায়।”

— “তুই জানিস, শেওলা কী?”
রিয়াদ হঠাৎ প্রশ্ন করে।

— “ওই তো, জলে জন্মায়… সবুজ… নরম…”
ফাতেমা জবাব দেয়।

— “হ্যাঁ, আর নিঃশব্দে পচে।
যেমন রোশনি।
ও এখনো বেঁচে আছে, হাসে…
কিন্তু সেই হাসির ভেতর খাঁচাবন্দী এক কান্না থাকে—
যেটা বাইরে আসে না, শুধু ভেতর পুড়ে যায়।”

ফাতেমা আস্তে বলে—
— “বুঝলাম… কিন্তু?”

একটু থেমে মুখ ঘুরিয়ে ফেলে—
— “না… থাক… পরে শুনবো।”

তারপর ধীরে বলে—
— “আচ্ছা… দাদুভাই… রোশনি ফুফির কি হলো?”

রিয়াদ এবার চোখ তুলে তাকান না।
শুধু নিচু গলায় বলে ওঠেন—

“নিমুর? ওর অবস্থা এক লাইনে বলি—
সে এখন আর চোখের জলে কাঁদে না—
সে নিঃশব্দে পুড়ে যায়, যেন আগুনও শব্দ পেতে লজ্জা পায়।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Devoloped By WOOHOSTBD