দীর্ঘ আড়াই বছর চরম ভোগান্তির পর অবশেষে শুরু হয়েছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট-দেউন্দি-শায়েস্তাগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের সংস্কার কাজ। তবে কাজ শুরু হলেও চরম অনিয়ম আর গুণগত মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দিনের কাজ রাতে করা এবং বৃষ্টির জমে থাকা পানির মধ্যেই কার্পেটিং করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা ও চলাচলের অনুপযোগী ছিল। দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ ভাঙা রাস্তা দিয়ে চরম কষ্ট ও ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেছেন।
সম্প্রতি সড়কটির কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হলে স্থানীয়দের মনে স্বস্তি ফেরার কথা ছিল, কিন্তু কাজের পদ্ধতি দেখে তারা চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ।এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনের আলোয় কাজ না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাতের আঁধারে তড়িঘড়ি করে কার্পেটিংয়ের কাজ করছে।
সবচেয়ে বড় অনিয়ম হচ্ছে, বৃষ্টির কারণে সড়কে জমে থাকা পানির ওপরেই কোনো রকম প্রস্তুতি ছাড়াই পিচ ও পাথর ঢেলে কার্পেটিং করা হচ্ছে।স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘ আড়াইটা বছর আমরা এই রাস্তার জন্য নরক যন্ত্রণা ভোগ করেছি।
এখন ভাঙা রাস্তা ঠিক করা হচ্ছে ভালো কথা, কিন্তু বৃষ্টির পানির মধ্যে যেভাবে কাজ চলছে, তাতে এই রাস্তা দুই দিনও টিকবে না। দুই দিন পরে যদি আবার রাস্তা ভেঙে যায়, তবে আমাদের এই কষ্টের কোনো শেষ থাকবে না। সরকারি টাকার এভাবে অপচয় আমরা মেনে নেব না।
“সচেতন মহলের দাবি, ভেজা রাস্তা ও জমে থাকা পানির ওপর কার্পেটিং করলে পিচের বাঁধন (বন্ডিং) শক্ত হয় না। ফলে সামান্য লোড নিলেই বা অল্প দিনের মধ্যেই কার্পেটিং উঠে গিয়ে রাস্তা আগের চেয়েও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
রাতের অন্ধকারে কাজ করার মূল উদ্দেশ্যই হলো অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা, যাতে সাধারণ মানুষ তা সহজে ধরতে না পারে।
এই বিষয়ে স্থানীয় জনগণ ও পথচারীরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে এই নিম্নমানের কাজ বন্ধ করে দিনের আলোয় সিডিউল অনুযায়ী সঠিক গুণগত মান বজায় রেখে সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
ঠিকাদারের প্রতিষ্ঠান বলছে সঠিক নিয়ম মেনে তারা কাজ করছে নিয়মের বাহিরে কোন কিছু করা হচ্ছে না
Devoloped By WOOHOSTBD