তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক অঙ্গনে অসন্তোষ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করে ব্যক্তিগত পছন্দের প্রার্থীদের নেতৃত্বে আনার চেষ্টা চলছে এমন অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনটির সাবেক ও বর্তমান নেতাদের একাংশ। এ নিয়ে সার্চ কমিটির সুপারিশ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এজিএস শামসু ও ভিপি হানিফ নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় থানা বিএনপি ও যুবদলের নেতাদের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের অভিযোগও উঠেছে।
তিতুমীর কলেজ ছাত্রদল কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের অধীন একটি সাংগঠনিক ইউনিট। ফলে এ ইউনিটের নেতৃত্ব নির্বাচনে সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক ত্যাগ, মেধা, নেতৃত্বের যোগ্যতা এবং নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা এলাকাভিত্তিক প্রভাবের পরিবর্তে সংগঠনের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এ পরিস্থিতিতে বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এবং ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব আবদুর রহমান সানির নজরে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ উদ্যোগে ২০১১–১২ ও ২০১৩–১৪ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনকারী নেতৃবৃন্দ এবং সদ্য সাবেক নেতাদের একটি অংশ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সাবেক নেতাদের মতে, তিতুমীর কলেজের বর্তমান সাংগঠনিক বাস্তবতা ও ছাত্ররাজনীতির ধরন আগের সময়ের তুলনায় অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে বর্তমান প্রজন্মের নেতাকর্মীদের ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, পারস্পরিক সম্পর্ক ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা বিবেচনা করেই কমিটি গঠন করা জরুরি। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসের রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত না থাকা ব্যক্তিদের পক্ষে বর্তমান নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন হতে পারে।
২০০৮ সাল থেকে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সাবেক নেতাদের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং ক্যাম্পাসে সক্রিয় নেতাকর্মীদের সম্পর্কে বাস্তব ধারণা কাজে লাগালে যোগ্য নেতৃত্ব চিহ্নিত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে কে ত্যাগী, কার সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে এবং কে বিভিন্ন পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ করে সংগঠনকে এগিয়ে নিতে পারবেন—এসব বিষয় মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগকারীরা বলছেন, যোগ্য যে কেউ নেতৃত্বে এলে তাঁদের আপত্তি নেই। তবে ব্যক্তিগত তদবির, পছন্দের প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া কিংবা ক্যাম্পাসের বাইরের প্রভাবের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারণের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের আশঙ্কা, সাংগঠনিক বাস্তবতা ও নেতাকর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা উপেক্ষা করে কমিটি গঠন করা হলে তিতুমীর ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
তাঁদের মতে, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ত্যাগ, মেধা, যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতাকর্মীদের আস্থাকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এতে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কার্যক্রমও গতিশীল হবে।
সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য, তিতুমীর ছাত্রদল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিজস্ব বলয় নয়; এটি ছাত্রদলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সম্পদ। তাই কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
Devoloped By WOOHOSTBD