গতকাল জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার পোড়াদহ সাফ‘র আয়োজনে মানববন্ধন ও লিফলেট ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। মীর মতিউর রহমান টিটু মাষ্টারের সভাপতিত্বে সাফ‘র নির্বাহী পরিচালক ও জেলা তামাক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য মীর আব্দুর রাজ্জাক‘র পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে লিফলেট ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন পোড়াদহ রেলওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ হোসাইন। প্র্রতি বছর ৯ অক্টোবর বাংলাদেশে তামাক বিরোধী জোটের বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে সারা দেশে ‘জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস’ পালিত হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য “ই-সিগারেট/ভ্যাপ ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করুন, শিশু ও তরুণদের রক্ষা করুন।” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বক্তাগণ বলেন, ই-সিগারেট/ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (HTP) নিকোটিননির্ভর পণ্য। এসব পণ্য আসক্তি সৃষ্টি করে এবং শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে নতুন ঝুঁকি তৈরি করে। আকর্ষণীয় ফ্লেভার, আধুনিক ডিজাইন, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণাসহ নানা বিপণন কৌশলের মাধ্যমে এসব পণ্য ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদ্যমান তামাক পণ্য গুলোই যখন মারাত্মক ঝুঁকির কারণ, তখন কোন আইনি বিধি নিষেধ না থাকায় এইসব নতুন আসক্তি সৃষ্টিকারী পণ্যের বাজার বড় হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভয়ংকর উদ্বেগের বিষয় হলো, অল্প বয়সী স্কুল-কলেজপড়ুয়া ব্যবহারকারীরা এসব পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানে না। আধুনিক ও স্মার্ট ডিজাইনের কারণে অভিভাবক বা শিক্ষকরা বুঝতে পারছেন না, তাদের সন্তান বা শিক্ষার্থী পণ্যটি ব্যবহার করছে। বিভিন্ন স্থান ও অনলাইন মাধ্যমে/প্লাটফর্মে সহজলভ্য হওয়ায় শিশু-কিশোররা অল্প বয়সেই নিকোটিনের সংস্পর্শে আসছে। এখনই ই-সিগারেট/ভ্যাপ ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধের মাধ্যমে নেশার আসক্তি, অপরাধ প্রবণতা রোধ, সুস্থ্য স্বাভাবিক জীবন যাপনের পরিবেশ প্রদানের মধ্য দিয়ে রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। ২০২৫ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় “আমদানি নীতি আদেশে” ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে সংশোধিত “আমদানি নীতি আদেশ”-এর গেজেটে ২৮টি পণ্য নিষিদ্ধ করা হলেও তালিকায় ই-সিগারেট রাখা হয়নি। একইভাবে, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করা হলেও বর্তমান আইনে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট, নিকোটিন পাউচ ও অন্যান্য ইমার্জিং তামাক/নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করার কোনো বিধান নেই। ফলে এসব নতুন নিকোটিন পণ্যের বিষয়ে আইনগত শূন্যতা তৈরি হয়েছে ।
স্বাস্থ্যহানিকর এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রয়, বিপণন, বিতরণ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সুস্পষ্ট আইনগত ব্যবস্থা ও কার্যকর নিষেধাজ্ঞা জরুরি। বাজার সম্প্রসারণের আগেই তরুণদের সুরক্ষায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন এবং খুবই জরুরী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৪২টি দেশ ENDS-এর বিক্রয় নিষিদ্ধ এবং ১৩৩টি দেশ ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণ করেছে। এমতাবস্থায় জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আমাদের সুপারিশ— ১. ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিকোটিনের আসক্তি থেকে সুরক্ষায় যথাযথ আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে ই-সিগারেট/ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, মজুত, বিক্রয়, বিজ্ঞাপন, বিপণন, বিতরণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে । ২. শিশু-কিশোর ও তরুণদের রক্ষায়, খেলার মাঠ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে সকল ধরনের নেশাজাতীয় পণ্য (ই-সিগারেট/ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট) বিক্রয় নিষিদ্ধ ও আইন বাস্তবায়ন করতে হবে । ৩. জনস্বাস্থ্যে ও জনস্বার্থে “আমদানি নীতি আদেশ”-এর গেজেটে নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় ই-সিগারেট/ভ্যাপ ও ENDS(Electric Nicotine Delivery System) অন্তর্ভূক্ত করতে হবে ।
Devoloped By WOOHOSTBD