নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
প্রানী চিকিৎসা সেবায় বিশেষ অবদান রাখায় মরহুম কাজী মোফাজ্জল হোসেনকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সহিত পশু-প্রাণীর সুচিকিৎসায় বিশেষ অবদান রাখায় মরহুম কাজী মোফাজ্জল হোসেনকে তাঁর সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে নওগাঁ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর এবং জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে যৌথভাবে এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মরহুমের পরিবারের পক্ষে তাঁর স্ত্রী মোছাঃ নুরুন্নাহার এবং সন্তান সাংবাদিক কাজী নুরুন্নবী (নাইস)-এর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার ও সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আমিনুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা পশু-প্রাণী চিকিৎসক মোঃ শাহিনুর ইসলাম ও মোঃ শাহিনুর আলম, অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাণী সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ মোতাহার হোসেন এবং অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা ভেটেরিনারি অ্যাসিস্ট্যান্ট মোঃ ইসমাইল হোসেন, জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অফিস সহকারী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, এছাড়াও দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মরহুমের প্রাক্তন সহকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই মরহুম কাজী মোফাজ্জল হোসেনের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। ১৯৪৫ সালে নওগাঁ সদর উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের সম্ভ্রান্ত কাজী পরিবারে জন্মগ্রহণকারী এই গুণী ব্যক্তি ১৯৬৩ সালে সাফল্যের সাথে ম্যাট্রিক পাসের পর পশু সম্পদ অধিদপ্তরে যোগদান করেন।
কর্মজীবনে তিনি অত্যন্ত সততা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। অর্জনের ঝুলিতে ছিল ১৯৭২ সালে ময়মনসিংহ থেকে লাইভস্টক ট্রেনিং কোর্সে প্রথম স্থান অর্জন, ১৯৮৮ সালে গাইবান্ধা হতে পশু সম্পদ উন্নয়নে শ্রেষ্ঠত্বের সনদ এবং ১৯৯৮ সালে রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে জেলাভিত্তিক শ্রেষ্ঠ পশু চিকিৎসকের গৌরব।
২০০৩ সালে অবসর গ্রহণের পরও তিনি নিজ এলাকায় পোল্ট্রি খামার গড়ে তুলে প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। ২০১৯ সালের ৩১ জুলাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা এই সৎ ও নিষ্ঠাবান চিকিৎসক আজও তাঁর কর্ম ও সততার স্মৃতি হয়ে সহকর্মী ও এলাকাবাসীর হৃদয়ে বেঁচে আছেন।
Devoloped By WOOHOSTBD