নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলায় আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় তুলেছে অপারেশন ‘ডেভিল হান্ট’। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্রদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছেন উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সালিমা হোসেন শান্তাসহ স্থানীয় যুবলীগের দুই কর্মী।
বন্দর থানা পুলিশ গত শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতভর পৃথক অভিযানে এ তিনজনকে আটক করে। রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়। মামলা সূত্রে জানা যায়, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া ১৪(৮)২৪ এবং ১১(৯)২৫ মামলায় এদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সালিমা হোসেন শান্তা (৫০) : বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী।
আব্দুল মোক্তাদির অনিক (৩৬) : ফরাজিকান্দা এলাকার বাসিন্দা ও যুবলীগ কর্মী।
মুন্না (৪০) : বন্দর র্যালি আবাসিক এলাকার যুবলীগ কর্মী।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালে বন্দর শাহীমসজিদ এলাকায় চরমোনাই সমর্থক এক কর্মীর গ্যারেজে আকস্মিক হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা সমন্বিতভাবে এ হামলা চালায়। ঘটনার পরপরই মামলা দায়ের হলেও মূল আসামিরা দীর্ঘদিন ধরেই ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।
এরপর আগস্টের শুরুর দিকে বন্দর খেয়াঘাট এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওই হামলায় সরাসরি অংশ নেন যুবলীগ কর্মী অনিক ও মুন্না। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলন আরও তীব্র হয়।
সালিমা হোসেন শান্তা দীর্ঘদিন ধরে বন্দর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব যথেষ্ট বলেই জানা যায়। তবে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় হামলার পরিকল্পনায় তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে শুরু থেকেই গুঞ্জন চলছিল। সর্বশেষ শনিবার রাতে ফরাজিকান্দা নিজ বাসা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহল বলছে, এ গ্রেপ্তার শুধু একটি মামলার অংশ নয়, বরং বন্দরের ক্ষমতাসীন দলীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বন্দর থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অপারেশন ডেভিল হান্টের অংশ হিসেবে আমরা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করছি। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে হামলার ঘটনায় পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকায় এ তিনজনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।
স্থানীয় সাধারণ মানুষ মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার ছত্রছায়ায় থাকা প্রভাবশালীদের এভাবে গ্রেপ্তার করা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তবে তারা এটাও বলছেন, শুধু নামমাত্র কিছু গ্রেপ্তার নয়, আসল দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিচার নিশ্চিত না হলে আন্দোলনের ক্ষত মুছবে না।
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট সংঘর্ষে একাধিক মামলা ও অসংখ্য অভিযোগ জমা হয়েছে। এ ঘটনায় সালিমা শান্তাসহ যুবলীগ কর্মীদের গ্রেপ্তার বন্দরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় এবং এ গ্রেপ্তার সত্যিই কি আইনের শাসনের জয় হবে, নাকি রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টির কৌশল সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
Devoloped By WOOHOSTBD