গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনে নিরষ্কুষ বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করে বিএনপি। ইতিমধ্যেই মন্ত্রী পরিষদও চুড়ান্ত হয়েছে। এখন অপেক্ষা শপথ অনুষ্ঠানের। এরই মধ্যে সারাদেশের ন্যায় রংপুরেও শুরু হয়েছে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নিয়ে আলোচনা। রংপুরের দলীয় নেতাকর্মীসহ অনেকের মুখে মুখে আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে আরজানা বেগমের নাম। ইতিমধ্যেই বিএনপিসহ সর্বস্থরের মানুষজন তাকে ওই পদে পেতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
জানাগেছে, রংপুর মহানগরীর কামলা কাছনা মায়াময়ী সড়ক এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা সম্ভান্ত্র পরিবারের সন্তান আরজানা বেগম পেশায় ছিলেন স্কুল শিক্ষক। পরবর্তীতে তিনি রংপুর পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবে দীর্ঘ ৮ বছর সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন শিক্ষাক্ষেত্রে কর্মরত থাকা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করাসহ তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে রংপুরবাসীর কাছে একটি আরজানা বেগম (আরজানা সালেক) অধিক পরিচিত ও একটি আস্থাভাজন নামে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।
স্থানীয়রা জানান, তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর রংপুর শহরের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষাঙ্গন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। পরে অবসর গ্রহণ করলে তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হন। তিনি ২০০৪ সালে রংপুর পৌরসভা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর হিসেবে বিপুলভোটে নির্বাচিত হন। এই পদে তিনি দীর্ঘ ৮ বছর সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দল রংপুর পৌরসভা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি রংপুর মহানগর বিএনপির প্রথম কমিটিতে মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে অসীন হন। ২০২৩ সালে তিনি রংপুর মহানগর মহিলা দলের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে বর্তমান পর্যন্ত এই পদে দায়িত্বরত রয়েছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন।
দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা আরও জানান, শিক্ষকতা জীবনে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব করে তিনি অবসর গ্রহণের পর তিনি পুরোপুরি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আর্দশ ধারণ করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করে চলেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচী জনগণের মাঝে পৌছে দিতে দিনরাত কাজ করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মামলা-হামলা,হয়রানি ও প্রতিসিংসার শিকার হয়েছেন বহুবার। আর্থিকভাবে হয়েছেন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ। এর ফলে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তার রাজনৈতিক, সামাজিক, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন, গ্রহণযোগ্যতা ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের কারণে দলমত নির্বিশেষে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত। তার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে তাকে সংরক্ষিত আসনের নারী এমপি (সংসদ সদস্য) পদে দেখতে চায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্থরের জনগণ। তারা মনে করেন, তাকে এই পদে নির্বাচিত করলে তিনি অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রংপুরবাসীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারবেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি রংপুর জেলা বিএনপির একাধিকবার নির্বাচিত দপ্তর সম্পাদক, রংপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান আহবায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য ও রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন-আরপিইউজের সভাপতি আলহাজ¦ সালেকুজ্জামান সালেকের সহধর্মিণী। রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবি ও সাংবাদিক অঙ্গনে সচ্ছতা, ত্যাগ ও আদর্শের জন্য পরিচিত সালেকুজ্জামান সালেকের কর্মজীবন আরজানা বেগমের রাজনৈতিক পথচলায় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
জানাগেছে, সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর সদর-৩ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও মহানগর মহিলা টিমের প্রধান কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গ্রাম-গঞ্জ,পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দলীয় ৩১ দফার বার্তা পৌঁছে দেন এবং জনগণের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন। এসময় স্থানীয়দের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা প্রশংসিত হয়। বর্তমানে রংপুর মহানগরীসহ বিভিন্ন স্থানের অলিগলি ও হাট-বাজার, চায়ের দোকান, সামাজিক অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে একটাই দাবি উঠে আসছে সংরক্ষিত আসনে সৎ, সাহসী, মেধাবী, রাজপথের পরিক্ষিত সৈনিক, শিক্ষিত ও সাবেক সফল জনপ্রতিনিধি আরজানা বেগম ( যিনি আরজানা সালেক নামে অধিক পরিচিত) কে এমপি পদে মনোনয়ন দেয়া হোক।
দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, আরজানা বেগম রংপুরের মহিলা দলের ব্যান্ড। তিনি শিক্ষকতা করেছেন। একাধারে জনপ্রতিনিধি ছিলেন, মহিলা দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মহানগর বিএনপির মহিলা সম্পাদক ছিলেন। একজন আর্দশ গৃহণী হিসেবেও তিনি সঠিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সন্তানেরা আজ স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। পারিবারিক, সামাজিক অবস্থান, গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রতিনিধির অভিজ্ঞতার আলোকে তাকে রংপুরের মহিলা এমপি হিসেবে প্রয়োজন। এজন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহ দলের ও সরকারের উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এবিষয়ে আরজানা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন শিক্ষাকতা করেছি। সফলতার সাথে দীর্ঘ ৮ বছর রংপুর পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। রংপুর মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজপথে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছি। একারণে অনেক হামলা-মামলা-হয়রানীর শিকার হয়েছি।
তিনি বলেন, সততা, সাহস ও ভালোবাসার মাধ্যমে মানুষের সেবায় রয়েছি। তার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জনগণের সমর্থন ও দোয়া। সেই বত্্র নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। দল যদি মূল্যায়ন করে তিনি জাতীয় সংসদে রংপুরের মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে ‘প্রস্তুত’।