সোমবার (২৮ জুলাই /২৫) সকালে গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়ন কালীপুরা মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু মহাল ও চাঁদাবাজি করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় প্রান হারায় মান্নান নদীতে ট্রলারের নিতর মরদেহ পড়ে থাকে। খবর পেয়ে নৌ পুলিশ লাস উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লাস মুন্সি গঞ্জে প্রেরণ করেন ময়না তদন্তের পরে স্বজনের নিকট মরদেহ হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। রাজধানীর সূত্রাপুর ও কোতোয়ালী এবং মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে একজন মান্নান ওরফে শুটার মান্নান৷ গজারিয়ায় আসার আগে থাকতেন পুরান ঢাকার বনগ্রাম এলাকায়৷ রাসা বাজারে গর্দা ব্যবসার অন্তরালে ছিল তার এক ভয়ংকর সন্ত্রাসী বাহিনী৷ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় নুন্যতম ডজন খানেক মামলা রয়েছে এই শুটার মান্নানের বিরুদ্ধে । পুলিশী গ্রেফতার এড়াতে হাত মিলায় মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য ও বনগ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান খানের সাথে৷ দায়িত্ব নেয় সাইদুর রহমান খানের বডিগার্ড হিসাবে৷
সাইদুর রহমান খানের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় প্রথম বারের মতো গজারিয়ায় আগমন ঘটে শুটার মান্নানের। আস্তানা গড়ে তুলেছেন জৈষ্ঠতলা গ্রামে। একাধিক সুত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে শুটার মান্নানের পুর্ব পুরুষদের কেউ জৈষ্ঠতলার আদি বাসিন্দা নয়, তবে সাইদুর রহমান খানের সহযোগিতায় এই গ্রামের ভোটার তালিকায় নাম উঠে শুটার মান্নানের। নিজেকে দাবি করে জৈষ্ঠ তলা গ্রামের বাসিন্দা হিসাবে৷। অল্প সময়ের মধ্যে এলাকায় মোটামোটি একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে। নৌরুটে হয়ে উঠে আতংকিত নাম শুটার মান্নান ।
সাইদুর রহমান খানের ইউপি নির্বাচনে করিম খা গ্রামের ভোট কেন্দ্রে ভোট ছিনতাইয়ের নেতৃত্বে ছিল এই শুটার মান্নান । সাইদুর রহমান খান যখনই গজারিয়ায় আসতেন এই মান্নান বাইক নিয়ে তাকে প্রটোকল দিতেন । এই সুবাদে খুব দ্রুতই শুটার মান্নান একজন ভালো মাপের সন্ত্রাসী হিসাবে ইমামপুর ইউনিয়নে কালীপুরা পরিচিত লাভ করে। সাইদুর খানের সকল সন্ত্রাসী বাহিনীর নেতৃত্ব চলে আসে শুটার মান্নানের নিয়ন্ত্রণে । তবে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে সাইদুর রহমান খানের সাথে পাল্টি দিয়ে শুটার মান্নান হাত মিলায় সাইদুর রহমান খানের প্রতিপক্ষ গ্রুপের সাথে। সেই থেকে দ্বন্দ্ব শুরু হয় সাইদুর রহমান খানের আরেক সেনাপতি লালুর সাথে । মাঝে মধ্যে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলিও হয়েছে একাধিকবার৷
এদিকে আওয়ামিলীগ সরকারের শেষ সময়ের দিকে বালু মহলে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বর জেরটা আরও বেড়ে যায়৷ একজন আরেক জনকে হত্যা করার জন্য উপড়ে লেগেছে৷ তারই বহিঃপ্রকাশ আজকের হত্যাকান্ড। নিহতের স্ত্রী সুমি আক্তার দাবী এই হত্যাকান্ডের মুল নায়ক লালু ও তার স্ত্রী । কিন্তু স্থানীয় সাংবাদিকদের অনেকেই নিহত শুটার মান্নানকে লালু গ্রুপের সদস্য বলে প্রচার করতে দেখা গেছে ।মূলত গজারিয়া উপজেলার মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন নদী পথে চাঁদাবাজি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্বে জড় জড়িত। শুটার মান্নান ইতিপূর্বে প্রকাশ্যে স্থানীয় একটি মাছ বাজারে গুলি ছুড়ে আতংক বিরাজ করে জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। লালু ও জুয়েল মনে মিলে মিশে ভাড়াটিয়া খুনিদের সাহায্যে নদীতে গুলি করে হত্যা করার অভিযোগ তুলেন নিহততো স্ত্রী সুমি আক্তার। সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা নিশ্চিত করে নদীর মধ্যেই ট্রালারে লাস ফেলে যায়
Devoloped By WOOHOSTBD