• শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  তাহিরপুর শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের তেলীগাঁও গ্ৰামের সুজন পালের বাড়ি এখন মাদকের আস্তানা। উবহাটা ইউনিয়নের সেবক হতে চান রিপন তরফদার ভেড়ামারায় ভারতের এস্টার হসপিটালের পেশেন্ট হেল্প সেন্টার এর শুভ উদ্বোধন এলএসডি কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে চাল নেওয়ার অভিযোগ র‍্যাবের অভিযানে জয়পুরহাট সদর এলাকা থেকে ফেন্সিডিলসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ উদ্ধার নোয়াখালীতে ১১ (এগার) লিটার এ্যালকোহল সমৃদ্ধ বিয়ার ও ৩০ (ত্রিশ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ০২ জন আসামি গ্রেফতার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে মোটরসাইকেলসহ দুই জন আটক তাহিরপুরে জমি বিরোধে মামলা করায় নারীসহ ৬ জনকে কুপিয়ে জখম ‎

বাঁশখালীর নিখোঁজ ৫ যুবকের সন্ধান দাবিতে মানববন্ধন

Muntu Rahman / ১৬৯ Time View
Update : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

রিপোর্টার: মোনতাহেরুল হক আমিন : বাঁশখালী প্রতিনিধি।

#অভিযুক্ত দালালদের বিচার দাবি
#নিখোঁজের ১৯ দিন পেরিয়ে গেলেও দালালদের গ্রেপ্তার নেই

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা ঃ
সাগরপথে মালয়েশিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রলার আন্দামান সাগরে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ বাঁশখালীর ৫ যুবকের সন্ধান ও অভিযুক্ত মানবপাচারকারী দালালদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।

বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পুঁইছড়ি গ্রামের ফজুল্লা কাটা এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শতাধিক গ্রামবাসী ও নিখোঁজ যুবকদের স্বজনরা অংশ নেন। এসময় এলাকাবাসী ও স্বজনরা অভিযুক্ত মানবপাচারকারী দালাল জসীম উদ্দিন ও আবদুল্লাহর শাস্তি দাবি করেন।

উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পুঁইছড়ি গ্রামের নিখোঁজ ৫ যুবক হলেন—নজির আহমদের ছেলে মো. রুবেল (৩৩), আবদুর রহমানের ছেলে মো. ওসমান গণী (১৮), জাফর আলমের ছেলে মো. বেলাল উদ্দিন (২৫), তৈয়ম দুলালের ছেলে আজিজ (২৮) এবং মখছুদ আলমের ছেলে জামাল উদ্দিন ওরফে মানিক (২৩)।

স্থানীয়রা জানান, পূর্ব পুঁইছড়ি গ্রামের মো. আপনের ছেলে আবদুল্লাহ এবং দেলোয়ার হোসেনের ছেলে জসীম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড ও মালেশিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে প্রতারণা করে আসছে। গ্রামের বেকার যুবকরা তাদের ফাঁদে পা দিয়ে নিঃস্ব হয়েছে।

মধ্যম শিয়াপাড়ার আবদুর রহমানের ছেলে ওসমান গনী মাস্টার নজির আহমদ কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়তো। উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকেও মালেশিয়া নিয়ে যান প্রতারক চক্রের সদস্য জসীম উদ্দিন।

মানববন্ধনে স্বজনরা অভিযোগ করেন, দালাল চক্র বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে বিপজ্জনক এ যাত্রায় পাঠায়। নিখোঁজের ১৯ দিন পেরিয়ে গেলেও আজ অবধি তাদের খোঁজ মেলেনি।

কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন নিখোঁজ জামাল উদ্দিন ওরফে মানিক। মানববন্ধনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা খতিজা বেগম। জামাল উদ্দিনের পিতা মকছুদ আলম বলেন, দালালরা প্রথমে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে। পরে থাইল্যান্ডে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়। এরপর মালয়েশিয়ায় পাঠানোর নাম করে আবারও টাকা নেওয়া হয়। কাজের সুযোগের কথা বলে তার ছেলেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জানতে পারেন, ট্রলারটি সাগরে ডুবে গেছে। কিন্তু এখনো ছেলের কোনো সন্ধান পাননি।

নিখোঁজ মো. বেলালের স্ত্রী তাসমিনা আক্তার বলেন, আমার স্বামী অটোরিকশা চালাতেন। সুখেই চলছিল ঘর-সংসার। ১ এপ্রিল লোভনীয় অফার দিয়ে আমার স্বামীকে মানবপাচারকারী দালাল জসীম গাড়িতে করে টেকনাফ নিয়ে যায়। সেখান থেকে আমার স্বামীকে রিসিভ করেন আরেক মানবপাচারকারী দালাল আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, মানবপাচারকারী দালাল জসীম আমার ৯ বছরের সুখের সংসারের সর্বনাশ করলো। ওরা আমার প্রতিবেশী হয়ে কেমনে এই অবিচার করতে পারলো বুঝে উঠতে পারছি না। এখন আমার এক কন্যা আর এক ছেলে সন্তানকে নিয়ে কার কাছে যাবো? আমি অত্যন্ত গরীব পরিবারের মেয়ে। পাঁচ বোনের মধ্যে আমি সবার বড়। আমাদের একটা ভাই নেই।

পেশায় জেলে ছিলেন তিন ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক আজিজুর রহমান। মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করতে এসে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তার স্ত্রী তছলিমা বেগম। নিখোঁজ আজিজের বড় ভাই আনিস বলেন, আমার ভাই আমাকে টেকনাফ গিয়ে ফোনে বলে, ভাই আমি চলে যাচ্ছি মালেশিয়া। আমার জন্য দোয়া করবেন। তখন আমি বললাম, তোকে কে নিয়ে গেছে? তখন সে বললো, ‘আমাকে আবদুল্লাহ আর জসীম নিয়ে এসেছে। আমাকে বোটে তুলে দিয়ে ওরা চলে গেছে। আমার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছে ওরা।’

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী গভীর সমুদ্রে একটি নৌকা বিপদগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যায়। পরে অভিযান চালিয়ে প্রথমে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে এমটি মেঘনা প্রাইড জাহাজ তাদের উদ্ধার করে কোস্ট গার্ডের জাহাজে হস্তান্তর করে। বিপদগ্রস্ত নৌকায় অন্তত ২৮০ জন যাত্রী ছিল।

পুলিশ ও উদ্ধারপ্রাপ্তদের বরাতে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল কক্সবাজারের ইনানী, টেকনাফের বিভিন্ন পয়েন্ট এবং বাঁশখালীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রীদের ছোট নৌকায় করে গভীর সমুদ্রে থাকা একটি বড় ট্রলারে তোলা হয়। পরে প্রায় আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কয়েকদিন পর আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।

বেঁচে ফেরা একাধিক যাত্রীর ভাষ্য, ট্রলারে নারী-শিশুসহ প্রায় ২৮০ জন যাত্রী ছিল। দুর্ঘটনার পর তারা পানির বোতল ও তেলের ট্যাংকি ধরে দুই দিন সাগরে ভাসতে থাকেন। পরে একটি বাংলাদেশি জাহাজ তাদের উদ্ধার করে কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করে। তবে বাকি যাত্রীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

অন্যদিকে, কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়াগামী বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’ গত ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। পরে গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে কোস্ট গার্ড এবং টহল জাহাজ ‘মনসুর আলী’-তে স্থানান্তর করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Devoloped By WOOHOSTBD