রাষ্ট্রের দায়িত্ব- মেধা সম্পদ সুরক্ষা ও বিকাশে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি। শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেয়া কি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজ? মুখস্থ নির্ভর শিক্ষা, প্রশ্ন নির্ভর পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে কোনো শিক্ষার্থীর মেধা, যোগ্যতা কিংবা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যায় না। কোন সনদ অর্জন না করেও যুগান্তকারী পরিবর্তন বয়ে আনার নজির রয়েছে।
পত্রিকায় প্রকাশ, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। যারা উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের আন্তরিক অভিনন্দন। একই সঙ্গে যারা প্রত্যাশিত নম্বর অর্জন করতে পারেনি তারাও মেধাবী। তাদের প্রতিভার বিকাশ হওয়া জরুরী। এতে দেশ ও জাতির জন্য সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।
অপুষ্টি, বিদ্যালয়ের মান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, পাঠ্যক্রম ও পরীক্ষার পদ্ধতি, পারিবারিক সহিংসতা, আর্থিক সংকট, মানসিক চাপ, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন বাস্তব পরিস্থিতি তার প্রস্তুতি ও পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ফলাফল খারাপ হলেই তাকে ‘ফেইল’ হিসেবে চিহ্নিত করা ন্যায়সংগত নয়। গ্লানিতে অনেকে আত্মহত্যা করছে।
মার্কশিট থেকে ‘ফেইল’ শব্দ প্রত্যাহার করে ‘অগ্রসরমান’ বা ‘অগ্রগতির অপেক্ষায়’ মতো গঠনমূলক শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ শিক্ষার উদ্দেশ্য পরাজিত করা নয়; বরং শেখা ও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো—যারা পাস করতে পারেনি, তাদের জন্য আগামী তিন মাসের মধ্যে বিশেষ নিবন্ধন ও পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এতে একজন শিক্ষার্থীর ১ বছর নষ্ট হবে না এবং সে দ্রুত পরবর্তী শিক্ষাজীবনে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠতে পারে— একজন শিক্ষার্থী কাংখিত নম্বর কেন পেল না? শুধু শিক্ষার্থীকে দায়ী না করে বিষয়টি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
ফল খারাপ হওয়ার দায় এককভাবে শিক্ষার্থীর ওপর চাপানো ন্যায়সংগত নয়। পরীক্ষার ফলাফলের কারণে কোনো সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী যেন ঝরে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা, যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা অতীব জরুরি।
আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য—‘ফেইল’ নয়, শিক্ষার্থীদের আরও একটি সুযোগ দিতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে শাস্তিমূলক নয়, বরং মানবিক করতে হবে। একটি নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্নের উত্তরের ওপর ভিত্তি করে একজন কিশোর-কিশোরীর পুরো ভবিষ্যৎকে ‘ফেইল’ শব্দ দিয়ে চিহ্নিত করা কতটা মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব—এ প্রশ্ন এখন নতুন করে চিন্তার সময় এসেছে।
লেখক: যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ কংগ্রেস।
Devoloped By WOOHOSTBD