কলাপাড়ায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক বিতরণের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ।
Muntu Rahman
/ ৩
Time View
Update :
বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
Share
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় পানির ট্যাংক বিতরণে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরবিএস এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহায়তায় উপকূলীয় অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর, লতাচাপলী ও ধুলাসার ইউনিয়নে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রায় ৫০০টি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ট্যাংক স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
গত ১৮ জুলাই (শনিবার) মহিপুর থানার পুরান মহিপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ট্যাংক স্থাপনের জন্য নির্মিত প্ল্যাটফর্মে নিম্নমানের খোয়া ও সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্প অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ট্যাংক ও নির্মাণসামগ্রী সুবিধাভোগীদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ এবং ট্যাংক স্থাপন করার কথা থাকলেও, অভিযোগ রয়েছে যে সুবিধাভোগীদের নিজেদের খরচে ট্যাংক ও মালামাল আনতে হয়েছে। এছাড়া “অনলাইন খরচ” দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তারের স্বামী বলেন, আমরা নিজ খরচে পুরান মহিপুর থেকে ট্যাংক এনে বাড়িতে নিয়েছি। পরে অনলাইন খরচের কথা বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে।
একই অভিযোগ করেন সুদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসান। তিনি বলেন, নিজ খরচে ট্যাংক আনতে হয়েছে। এরপর অনলাইন খরচের কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছে।
মহিপুরের কৃষ্ণ কর্মকার জানান, আমি ৫০০ টাকা ভাড়া দিয়ে ট্যাংক বাড়িতে এনেছি। এরপর আবার অনলাইন খরচের কথা বলে টাকা নিয়েছে।
এ বিষয়ে ট্যাংক বিতরণে দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রাব্বী সাংবাদিকদের তথ্য না দিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিষয়টি মীমাংসার জন্য অর্থ দিয়ে সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করারও চেষ্টা করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মেসার্স আরবিএস এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. শোয়াইব বলেন, বৃষ্টি ও কাঁচা রাস্তার কারণে সব জায়গায় ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে পরিবহন ভাড়া যদি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে পরিশোধ না করা হয়ে থাকে এবং কেউ টাকা নিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত তিন দিন বিভিন্ন সাইট পরিদর্শন শেষে ২১ জুলাই (মঙ্গলবার) কলাপাড়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. ইব্রাহীম হোসেন বলেন, চুক্তি অনুযায়ী প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ ও ট্যাংক স্থাপনের দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। কাজে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।