• সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
বিশ্বম্ভরপুরে মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষায় আর্থিক সহায়তা নিয়ে পার্টনারশিপ স্কোপিং সভা অনুষ্ঠিত হয়। কটিয়াদীতে বাবার জানাজার আগে ঢোল-বাঁশি! সমালোচনার ঝড়ে শেষমেশ ক্ষমা চাইলেন ছেলে ভেড়ামারায় হেলমেট ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি নোয়াখালীতে আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে জেলা জামায়াতের উদ্বেগ, প্রশাসনের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি— চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ একাধিক মামলার আসামি গ্রেফতার বেনাপোলে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীর বাড়ি গুলিবর্ষণ সংবাদ সম্মেলনে ন্যায়বিচার দাবি গভীর রাতেও অটল ৫৫ বিজিবি: হবিগঞ্জ সীমান্তে পুশ-ইন প্রতিরোধে সতর্কতামূলক মাইকিং ও জনসচেতনতা অভিযান । বহুমাত্রিকতার অনিন্দ্য আলো: লেখালেখি দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত শাম্মী তুলতুল তাহিরপুরে ৮ বছরের শিশুকে পালাক্রমে ধর্ষণ কালিয়াকৈরে যৌতুকের টাকার জন্য গৃহবধুকে হত্যার হুমকি

কটিয়াদীতে বাবার জানাজার আগে ঢোল-বাঁশি! সমালোচনার ঝড়ে শেষমেশ ক্ষমা চাইলেন ছেলে

Muntu Rahman / ২ Time View
Update : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

​এ.এস.এম হামিদ হাসান, 

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

​কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বৃদ্ধ বাবার মৃত্যুর পর ‘শোককে শক্তিতে রূপান্তর’ করার অভিনব এক চেষ্টা চালিয়েছেন সন্তান। তবে মরদেহ বাড়িতে রেখে ঢোল-বাঁশি বাজিয়ে এমন উল্লাসের ঘটনাটি এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

​রোববার (৭ জুন) কটিয়াদী পৌরসভার কাহেতেরটেকি গ্রামের বাসিন্দা শামসুদ্দিন বার্ধক্যজনিত কারণে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন।

আত্বীয়-স্বজনরা যখন তাঁর দাফন-কাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। মরদেহ গোসল করানোর আগে নিহতের ছেলে খাইরুল ইসলাম বাড়িতে ঢোল ও বাঁশিবাদক দল নিয়ে এসে এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করেন।

ঢোল-বাঁশি বাজানোর এই দৃশ্যটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভিডিওটি ভাইরাল হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দা ও পুরো জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই একে ধর্মীয় অনুশাসন ও সামাজিক মূল্যবোধের চরম পরিপন্থী বলে কঠোর প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে মরহুমের জানাজার নামাজ আয়োজন করা নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়।

​গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশ পাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও বেগতিক রূপ নেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় আলেম সমাজ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং সবাইকে শান্ত করেন। তাঁদের উপস্থিতিতে ও মধ্যস্থতায় ছেলে খাইরুল ইসলাম নিজের ভুল স্বীকার করেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও স্পর্শকাতর ঘটনার জন্য সবার সামনে জোড়হাতে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান তিনি। এরপর বিকেলে ধর্মীয় রীতি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে জানাজা শেষে মরহুম শামসুদ্দিনের দাফন সম্পন্ন হয়।

​জানাজার পূর্বে উপস্থিত মুসল্লিদের সামনে ক্ষমা চেয়ে খাইরুল ইসলাম বলেন,
“জীবিত অবস্থায় আমার বাবা আমাকে অসিয়ত করেছিলেন—তার মৃত্যুর পর যেন আমরা অতিরিক্ত কান্নাকাটি বা শোক প্রকাশ না করি, বরং আনন্দের সাথে হাসিখুশি মুখে যেন তাকে বিদায় দিই। বাবার সেই শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়েই আবেগের বশে আমি এমনটি করে ফেলেছি। আমার এই কাজে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমাকে আন্তরিকভাবে ক্ষমা করে দেবেন।”

​এ বিষয়ে স্থানীয় ইমাম মাওলানা তফাজ্জল হক রাশেদীন বলেন,”ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী কারো মৃত্যুতে সবাইকে ধৈর্য ধারণ ও মরহুমের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। মৃতদেহ সামনে রেখে ঢোল-বাঁশি বাজানো ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ ও সামাজিক সংস্কৃতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।” ভবিষ্যতে যেন এই ধরনের স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত বিষয়ের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য সমাজের সবাইকে আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Devoloped By WOOHOSTBD