ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পাশ থেকে ফতুল্লার গৃহবধূর লাশ উদ্ধারের ক্লুলেস হত্যার সাথে জড়িত ২ জন অন্যতম আসামিকে গ্রেফতার করেছে নারায়ণগঞ্জ র্যাব-১১।
বাংলাদেশ আমার অহংকার এই স্লোগান নিয়ে র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র, মাদক উদ্ধার, চাঞ্চল্যকর হত্যা এবং বিভিন্ন আলোচিত অপরাধীদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারী ও আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতারের মাধ্যমে র্যাব ইতোমধ্যেই জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, অত্র মামলার ভিকটিম হাসিনা পারভীন মিনু, বয়স অনুমান ৪৭ বছর, তিনি ছিলেন একজন গৃহীনি। ভিকটিম তার ছোট ছেলেকে নিয়ে তুষারধারা আবাসিক এলাকা, রোড নং-২, সেক্টর-৯, থানা-ফতুল্লা, জেলা-নারায়নগঞ্জ ভাড়া বাসায় বসবাস করিয়া আসছিলেন। ভিকটিম হাসিনা পারভীন মিনু গত ১৭/০২/২০২৬ ইং তারিখ বেলা অনুমান ১২.৪৫ ঘটিকার সময় একটি ফোন পেয়ে পরিবারের লোকজনকে কিছু না বলে দ্রুত বাসা হতে বের হয়ে যান। পরবর্তীতে ভিকটিম বাসায় ফিরে না আসায় ভিকটিমের পরিবার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। পরবর্তীতে গত ১৮/০২/২০২৬ ইং তারিখ বেলা অনুমান ০৪.১৭ ঘটিকার সময় ভিকটিম এর মেঝো ছেলে মোঃ সাইফুর রহমান অপু (২৬) হঠাৎ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানিতে পারেন যে, ভিকটিম এর মৃতদেহ ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানা এলাকায় পাওয়া গিয়েছে এবং তার মৃতদেহ বর্তমানে ভাঙ্গা থানায় আছে। ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানা এলাকায় ভিকটিম হাসিনা পারভীন মিনু মৃতদেহ পাওয়ার সংবাদের প্রেক্ষিতে তার পরিবারের লোকজন ভাঙ্গা থানায় আসিয়া ভিকটিমের মৃতদেহ সনাক্ত করেন। জানতে পারেন যে ভিকটিম এর মৃতদেহ ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার ভাঙ্গা টু ঢাকা মহাসড়কে ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামের সার্ভিস লেনের উত্তর পাড়ে আড়িয়াল খাঁ নদীর পাশে পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ ভিকটিমের মৃতদেহ অজ্ঞাত হিসাবে সুরতহাল প্রস্তুত করিয়া ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে প্রযুক্তিগত তথ্যের সাহায্যে পরিচয় সনাক্ত করেন। এরই প্রেক্ষিতে নিহতের ভিকটিম এর মেঝো ছেলে মোঃ সাইফুর রহমান অপু (২৬) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এই নৃশংস, নির্মম ও ক্লুলেস হত্যার সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারের জন্যে র্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ ছায়াতদন্ত শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সদর কোম্পানি, নারায়ণগঞ্জের একটি আভিযানিক দল গত সোমবার ( ৩০ মার্চ, ২০২৬) ইং তারিখ ১৫:২০ ঘটিকার সময় ডিএমপি ঢাকার ডেমরা থানার মাহামুদনগর এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ক্লুলেস হত্যা মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করে। ১। মোঃ জহিরুল ইসলাম খান (৫২), পিতা-মৃত আব্দুল করিম, সাং-মেঘতলী বাজার, শুভপুর, থানা-চৌদ্দগ্রাম, জেলা-কুমিল্লা এবং আরেকটি অভিযানে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আরেক আসামি ৩০ মার্চ, ২০২৬ ইং তারিখ ১৬:১০ ঘটিকার সময় নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মৌচাক এলাকা হতে ২। মোঃ আনিছুর রহমান (৪০), পিতা- ছোবান আলী, সাং-তেঘরিয়া, থানা-শ্যামনগর, জেলা-সাতক্ষিরাকে গ্রেফতার করা হয় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে কি কারণে হত্যা করা হয়েছে তা জানা যায়নি।
Devoloped By WOOHOSTBD