সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এক ‘সুবিধাবাদী’ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার অভিযোগ উঠেছে। ১নং আটগাঁও ইউনিয়নের উজানগাঁও গ্রামের জালাল মিয়া নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি জলমহাল দখল, বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন এবং সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জালাল মিয়া দীর্ঘকাল আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকায় দাপট দেখিয়েছেন। ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে তিনি রাতারাতি নিজেকে বিএনপি কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। তার এই আকস্মিক ‘ভোলবদল’ এবং দলীয় তকমা ব্যবহার করে জনমনে ভীতি সঞ্চার করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরাও।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আটগাঁও ইউনিয়নের ‘কাবিলা বিল’ জলমহাল নিয়ে। “বড়খাল মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি” নিয়ম অনুযায়ী সরকারের কাছ থেকে বিলটি ইজারা নিলেও জালাল মিয়া পেশীশক্তি ব্যবহার করে বিলটি নিজের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও সমিতির অংশীদার গোলাম কিবরিয়া জানান, জালাল মিয়া সরকারি আইন অমান্য করে বিলের পানি শুকিয়ে এবং বিষ প্রয়োগ করে মাছ আহরণ করছেন, যা প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
জানা গেছে, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার পর পুলিশ সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে।
উজানগাঁও গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, জালাল মিয়ার প্রধান হাতিয়ার হলো ‘মামলা-বাণিজ্য’। নিরীহ গ্রামবাসীকে ভিত্তিহীন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি নিয়মিত মোটা অংকের টাকা দাবি ও আত্মসাৎ করে আসছেন। তার হয়রানির মুখে গ্রামের অনেক পরিবার এখন দিশেহারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জালাল মিয়া সব সরকারের সময়ই ক্ষমতার দাপট দেখায়। এখন সে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মানছে না এবং আমাদের মিথ্যা মামলার ভয় দেখাচ্ছে। আমরা এই জুলুম থেকে মুক্তি চাই।
জালাল মিয়ার অপকর্মে বিব্রত স্থানীয় বিএনপি। শাল্লা উপজেলা বিএনপির ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তার দায়ভার দল নেবে না। প্রকৃত দলীয় কর্মীদের ভাবমূর্তি রক্ষায় এ ধরনের সুবিধাবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জালাল মিয়া দাবি করেন, তিনি হাইকোর্টে রিট করেছেন এবং জলমহালটি তার জিম্মায় আছে। তবে ইজারা পরবর্তী সময়ে কীভাবে সরকারি জলমহাল তার ব্যক্তিগত জিম্মায় থাকে—এমন প্রশ্ন এবং আওয়ামী লীগের সাথে তার পূর্ববর্তী সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জালাল মিয়ার অপতৎপরতা বন্ধে দিরাই-শাল্লার উর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। সাধারণ মানুষের দাবি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে এই ‘সুবিধাবাদী’ চক্রের হাত থেকে সরকারি সম্পদ ও জানমাল রক্ষা করা হোক।
Devoloped By WOOHOSTBD