নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিরোধপূর্ণ জমিতে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলায় নারীসহ চারজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত আব্দুস সামাদ আওয়ামিলীগের শিরন্টি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের এর সাবেক সেক্রেটারি বলে জানা গেছে।তার বাড়ী কুচিন্দা গ্রামে।
গত সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটের দিকে সাপাহার উপজেলার শেষ সীমানার ঘরিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় মোজাম্মেল হক, আব্দুস সামাদ, সাদিকুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও ফাতেমা খাতুনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, পত্নীতলা থানাধীন ৩ নম্বর দিবর ইউনিয়ন পরিষদের দিবর মৌজার জেএল নং-৪৭, আরএস খতিয়ান নং-৩৬, দাগ নং-৩০-এর মোট ১ একর ৭ শতাংশ বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইটের বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন অভিযুক্তরা । বিকেলে হাটতে গিয়ে মালিকপক্ষ গৃহবধূ মর্জিনা আক্তারের চোখে পড়লে জমির দিলে একই গ্রামের অলিমউদ্দিনের ছেলে আব্দুস সামাদ ও মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে অভিযুক্তরা লাঠি, লোহার রড ও হাসুয়া নিয়ে হামলা চালান। এতে মর্জিনা আক্তারকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়। খবর পেয়ে আরো অনেকে এগিয়ে এলে তাদের ওপর ও হামলা চালায় অভিযুক্তরা। এছাড়া বাদী মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, তার বাবা ও চাচিসহ আরও কয়েকজন আহত হন। হামলার সময় নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া, হত্যার চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ মর্জিনা আক্তার বলেন, বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩ টার দিকে আমি এবং আমার জা হাটতে বের হই। আমরা দুজনে হাঁটতে হাঁটতে ঘরিয়া পাড়া শুরুর দিকে যে আমাদের জমি আছে সেখানে দেখতে পাই আমাদের জমির ওপরে অবৈধভাবে মোজাম্মেল বাহিনী জোর করে বাড়ি করছে আমরা বাধা দিলে আমাদের ওপর হামলা করে এবং আব্দুস সামাদ ও মোজাম্মেল হক আমার ওপর শারিরীক নির্যাতন করে শ্লীলতাহানি ঘটায় আর বলতে থাকে শেখ হাসিনা থাকলে তোদেরকে জবাই করতাম। এই আওয়ামিলীগ নেতার বিচার চাই।
আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আমার মা ও চাচিকে মারা হচ্ছে এবং ঘরের মধ্যে টেনে নিয়ে যাচ্ছে তারা এ অবস্থায় আমি তাদের হাত থেকে আমার মা ও চাচিকে এগিয়ে নিতে গেলে তারা আমার ওপর ও হামলা চালায়। আমাকে মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। আমার পটেকে ব্যবসার টাকা ছিল ৫০ হাজার সেটিও তারা ছিনিয়ে নেয়। এই আওয়ামিলীগ মাঝে মধ্যেই মানুষের সম্পত্তি দখল করে তার সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিৎ।
অভিযুক্ত আওয়ামীলীগের সাবেক এই নেতা আব্দুস সামাদ এলাকায় “মামলাবাজ সামাদ” নামে পরিচিত।
পতিত সরকারের আমলে সে অনেক পরিবারকে মিথ্যা হয়রানি মামলায় ফাঁসিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, নিয়ামুল হক বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Devoloped By WOOHOSTBD