মিরসরাইয়ে অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপারের বাড়িতে চাঞ্চল্যকর ডাকাতি: আগ্নেয়াস্ত্রসহ আন্তজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেফতার
গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টার মধ্যে মিরসরাই থানাধীন ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম ওয়াহেদপুর, শেখের তালুক এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ মতিন উল্লাহর বসতবাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দলের ১৫/১৬ জন সদস্য বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। এ সময় বাড়ির মালিককে মারধর করে তাঁর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলা হয়। তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আটকে রাখা হয়।
ডাকাতরা বাড়ির বিভিন্ন কক্ষের আলমারি, ওয়ারড্রোব ও আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটর, ডিভিআর, সিপিইউসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুণ্ঠন করে। এ ঘটনায় লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ ৪০ হাজার ১৫০ টাকা।
ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীরা প্রতিবেশীদের সহায়তায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করেন। সংবাদ পেয়ে মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জসহ পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করেন।
ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম মহোদয়ের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও মিরসরাই থানা পুলিশ তদন্ত এবং অপরাধীদের শনাক্তকরণে তৎপরতা শুরু করে।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন, স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলা এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আন্তজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত নিম্ললিখিত আলামত গুলো উদ্ধার করা হয়।
১। ১টি এলজি
২। ৪ রাউন্ড কার্তুজ
৩। ২টি বড় ছোড়া
৪। ১টি ট্রাক
৫। সিসি ক্যামেরার ১টি ডিভিআর এবং মনিটর
৬। ১ টি সিপিইউ
৭। ১টি ভাঙ্গা তালা
গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয়:
১। মোঃ রহিম, পিতা:আব্দুল হামিদ সাংমোহনপুর, ডাকঘর:মজিদপুর, থানা:তিতাস, জেলা:কুমিল্লা।
চুরি, অস্ত্র, খুন ও ডাকাতিসহ ১০টি মামলা রয়েছে।
২। মোঃ জামাল প্রকাশ কুদ্দুস, পিতা:মৃত হোসেন আলী, সাং: ষোলাপুকুরিয়া, ডাকঘর: বারুকশা, থানা: বরুড়া, জেলা: কুমিল্লা। চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে ৪টি মামলা রয়েছে।
৩। মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রকাশ সজিব, পিতা:মৃত মোবারক ভূঁইয়া, সাং মাওরাবাড়ি, ডাকঘর মোহাম্মদপুর, থানা দাউদকান্দি, জেলা কুমিল্লা। ডাকাতির ২টি মামলা রয়েছে।
৪। মোঃ আনোয়ার হোসেন মিলন, পিতা মোঃ আবু তাহের, সাং নাওদি, ডাকঘর আজগরা বাজার, থানা লাকসাম, জেলা কুমিল্লা। বর্তমান ঠিকানা: কাস্টম বিল্ডিং, থানা আকবর শাহ, চট্টগ্রাম মহানগর।
৫। মোঃ হানিফ, পিতা মৃত যোবন আলী, সাং সিলইন, ডাকঘর আজগর আলী বাজার, থানা লাকসাম, জেলা কুমিল্লা। বর্তমান ঠিকানা: বাসা নং ৮০/৮১, রোড নং ৮, প্রশান্তি আবাসিক এলাকা, থানা আকবর শাহ, চট্টগ্রাম মহানগর। ডাকাতির চেষ্টার ১টি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা একটি আন্তজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তারা কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত একাধিক সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার অবসরে যাওয়ার পর পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধা বাবদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পেয়েছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাড়িতে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী পাওয়ার আশায় ডাকাত দলটি ডাকাতির পরিকল্পনা করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেফতার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধের তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Devoloped By WOOHOSTBD