ভেড়ামারা প্রতিনিধি – ভেড়ামারা রেলওয়ে প্লাটফর্ম এখন আড্ডা ও বিনোদনের জন্য মিনি পার্ক নাম বললেও ভুল হবেনা। অবিভাবক এবং প্রশাসনের উদাসীনতায় কিশোর কিশোরীরা ১নং ও ২নং প্লাটফর্ম এখন চায়ের আড্ডার নামে শতাধিকের বেশী চেয়ার ট্রি টেবিল বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের আড্ডা মিনি পার্কে পরিণত হয়েছে।
অপরদিকে ভেড়ামারা রেলওয়ে ২ নং প্লাটফর্ম এর উত্তর-পূর্ব সাইডে বাউন্ডারি না থাকায় অরক্ষিত। দিনে কিংবা রাত্রে যাত্রীরা ভয় পায় এবং ছোট খাটো অপ্রীতিকর ঘটনা ও ঘটে চলেছে। বাউন্ডারি না থাকায় সবার অবাধ বিচরণ। মাদকসেবি ও মাদকবিক্রেতাদের আতুর ঘরে পরিণত হয়েছে। এবিষয়ে স্টেশন মাস্টার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাউন্ডারি না থাকায় সাধারণ যাত্রীদের সমস্যা হয়। রেলওয়ে পুলিশ কম থাকায় ঝুঁকি রয়ে যায়।
বাউন্ডারি এর জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষ কে জানানো হয়েছে। দিনে প্রাইভেট ছাত্রী এবং যাত্রীরা নানাভাবে হয়রানি হয়ে চলেছে। আব্দুল আজিজ বলেন, ট্রেনে উঠার সময় পকেট মারের খপ্পরে পরে আমার কলকাতায় যাওয়া হয়নি। হরহামেশাই পকেট মারের খপ্পরে অতিষ্ঠ যাত্রীগণ। আরেক ভুক্তভোগী আব্দুল হান্নান জানান আমি পরিবার নিয়ে রাজশাহী যেতে ছিলাম। ট্রেন আসতে বিলম্ব হওয়ার সুযোগে কিছু কিশোররা প্লাটফর্মের বেঞ্চে বসে বাজে টন করতে ছিল, পরিবার সাথে থাকায় সম্মানের ভয়ে আমি প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি। এটা দুঃখজনক। সন্ধ্যা পর উভয় প্লাটফর্মে কিশোর কিশোরীদের চায়ের নামে প্লাটফর্মে চেয়ার বিছিয়ে আড্ডা,,,।
এক শ্রেণির দলবদ্ধ একটা গ্রুপ ঘুরতে আসা ছেলে মেয়েদের জিম্মি করে ধান্দা করার ও অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিটন নামে এক ছাত্র জানান, আমি আমার বোনকে নিয়ে রাজশাহী যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। কতিপয় যুবক আমাকে চড় মেরে বলে মোবাইল কেড়ে নেয় এবং বলে শালা প্রেম করতে আসছিস,,,। পরে আমার এক পরিচিত আকমল চাচা আসলে চাচাকে বিষয় টা বললে তারা এড়িয়ে চলে যায়। এমন ঘটনা নাকি প্রায় ঘটে বলে এক বাদাময়ালা জানান।
অবাধ মটর সাইকেল যাতায়াত এবং পার্কিং হওয়ায় বাউন্ডারি না থাকায় ক্রাইম করে পালিয়ে যাওয়া সহজ হয়।
বাবু নামে এক ব্যক্তি বলেন, প্লাটফর্মে এখন মাদক বিক্রি এবং মাদক সেবীদের চোখে পড়ে। পকেট মারদের দৌরাত্ম্য চরম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
অপরদিকে রেললাইন জুড়ে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ভেড়ামারা অনলাইন প্রেসক্লাব প্রতিনিধি কে জানান তাদের কে প্রতিদিন একটা নিদিষ্ট টাকা দিতে হয়। টাকাটা কে বা কার নির্দেশে তোলা হয় সেটা নাকি স্টেশন মাস্টার জানেননা। যা দুঃখ জনক। রেলওয়ে পুলিশ বলেন, আমরা কি করবো, ছাত্র ছাত্রীরা বসে আড্ডা দেয় আমরা কিছু বলতে গেলে তারা বলে আমরা,,,,,। ফলে আমরা নিরুপায়।
অবিলম্বে বাউন্ডারি নির্মাণ এবং কিশোর গ্রুপ, ইভটিজার গ্রুপ, পকেট মার এবং মাদকসেবিদের হাত থেকে ভেড়ামারা রেলওয়ে প্লাটফর্ম রক্ষায় রেলওয়ে পুলিশ, ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসনসহ রেলওয়ে পুলিশ এবং থানা প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভেড়ামারা বাসী।
Devoloped By WOOHOSTBD