যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের মাহিদিয়া গ্রামে বর্তমানে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এক সন্ত্রাসী মাদক কারবারি সাবেক জামাইয়ের পক্ষে তার সাবেক শশুর বাড়ি ভাঙচুর, শশুর শাশুড়িকে পিটিয়ে জখম, শশুরের চায়ের দোকান ভাঙচুর করার পর এখন প্রতিদিন মাহিদিয়ায় মহড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভুগি সাবেক শশুর লিয়াকত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায় চাস্টল লিয়াকতের সারা গায়ে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। কিন্তু তিনি প্রাণ ভয়ে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। সন্ত্রাসীরা তার ও তার পরিবারের সদস্যদের গতিবিধি সর্বক্ষণ নজরে রাখছে। তবে এসব সন্ত্রাসী কারা তা তিনি চেনেন না। তবে সন্ত্রাসীদের সাথে থাকা মদদ দাতা তার সাবেক জামাই আব্দুর রউফ কে তারা চিনতে পারেন। আব্দুর রউফ মনিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর ইউপির সলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। সে কিছুদিন পূর্বে মাদক মামলায় জেল খেটেছে। তার পিতার নাম গফুর গাজী। কিছু দিন বিদেশ থেকে দেশে এসে সে জোর করে লিয়াকতের মেয়ে খাদিজাকে জোর করে বিয়ে করে। এরপর বউ ও শশুর বাড়ির লোকজনের উপর দমন নিপিড়ন করতে থাকে। কিছু দিন আগে তার সাথে খাদিজার তালাক হয়। এরপর থেকে সে প্রায় হুমকি দিতে থাকে। গত ২ জুন বিকালে আনুমানিক ৩০/৩৫ জনের সন্ত্রাসী গ্ৰুপ লিয়াকতের চায়ের দোকান, দোকান সংলগ্ন বাড়িতে হামলা করে। এসময় লিয়াকত ও তার স্ত্রীকে সন্ত্রাসীরা বেজায় মারধোর করে। সন্ত্রাসীরা দোকান থেকে টাকা পয়সা, মালামাল লুটপাট করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও সামছু গোলদারের বাড়িতে সন্ত্রাসীরা লিয়াকত কে একবার মারধোর করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ আছে।
লিয়াকত বর্তমানে চরম আতঙ্কে রয়েছেন। তিনি সন্ত্রাসীদের ভয়ে মাঠে ঘাটে থাকছেন। বাড়িতে থাকতে পারছেন না। এমনকি সারা গায়ে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। তবু তিনি ডাক্তার দেখাতে পারছেন না। তার কানের তালা ভেঙে গেছে ধারনা করা হচ্ছে। এছাড়াও সারা গায়ে তার আঘাত স্পষ্ট, ছেড়া কাঁটা রয়েছে।
মাহিদিয়ার স্থানীয়রা জানান, আব্দুর রউফ কিছু দিন বিদেশ ছিল। মালয়েশিয়া থেকে দেশে এসে সে আওয়ামীলীগ ক্যাডার হয়ে যায়। এ সময় সে মাদক কারবারে জড়ায়। এরপর ক্ষমতা ও সন্ত্রাসী ভাড়া করে জোর করে আরেক জনের স্ত্রী খাদিজা কে বিয়ে করে। এরপর তার উপর নির্যাতন চালাতে থাকে। বাধ্য হয়ে খাদিজা তালাক দেয়। মাদক মামলায় জেলখানায় চলে যায় আব্দুর রউফ। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে সে নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করছে। শহরের সন্ত্রাসী ভাড়া করে সে মাহিদিয়ায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। শান্তি প্রিয় মাহিদিয়া গ্রামবাসী শহরের সন্ত্রাসী ও তাদের সাথে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দেখে প্রাণভয়ে ওসব অপকর্মের প্রতিবাদ করতে পারছে না।
হরিহর নগর ইউপির নির্বাচিত জন প্রতিনিধি জানান, আব্দুর রউফ আগে আওয়ামীলীগ করতো। এখন এলাকায় মাদক নেশা ও কারবারে জড়িত। খেদাপাড়ার পাশেই সলিয়া গ্রাম। তবে সব দেখেও পুলিশ কেন চুপ তা তাদের বোধগম্য হয় না। তবে সলিয়া গ্রামবাসী জানায় মাদক মামলায় কদিন আগে রউফ জেল খেটে জামিনে বাইরে এসেছে। সে নেশাখোর ও সন্ত্রাসী নিয়ে চলাফেরা করে।
Devoloped By WOOHOSTBD