যশোর শহরের ব্যাপক সমালোচিত মামলাবাজ আবুল বাসার গঙ মনিহার ফলপট্টির পুরাতন ফল ব্যাবসায়ী হাজী বদরুজ্জামান কে ফাঁদে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে ব্ল্যাক মেইল করতে উঠেপড়ে লেগেছে। জাল স্ট্যাম্প এবং মিথ্যা মামলায় ঐ সহজ সরল প্রতিষ্ঠিত ব্যাব্যাবসায়ীকে ব্যাপক হয়রানি করা হচ্ছে। মামলা নম্বর সিআর ২৯৬৫/২৫।
ফল ব্যাবসায়ীরা জানান, মূলত পাওনা টাকা নিয়ে টালবাহানা করতেই এই জাল স্ট্যাম্প ও মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ফল ব্যাবসায়ী দের মাঝে।
জানা গেছে রেলগেটের মামলাবাজ আবুল বাসারের ভাই ফোরকান জাল স্ট্যাম্প তৈরি করে ফলপট্টি পুরাতন খুলনা বাস স্ট্যান্ডের বাপ্পি এন্টারপ্রাইজের মালিক বদরুজ্জামানের কাছে চেক গচ্ছিত আছে দাবি করেছেন।
বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলী আদালত কতোয়ালি যশোরে মামলাটি করেছেন নীলগঞ্জ সাহা পাড়ার ভিসা অফিসের পাশে হাসান ভিলার মৃত সইজ উদ্দীন মিয়ার ছেলে ফোরকান হোসেন। সাক্ষী করা হয়েছে ফোরকান নিজে সহ সোহারাব হোসেনের মেয়ে মোছা: হেনা, ছেলে পান্নু ও তার ভাই আবুল বাসার কে।
স্ট্যাম্প বা মামলার বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত ফল ব্যাবসায়ী বদরুজ্জামান কিছুই জানতেন না। জানার পর ২১ ডিসেম্বর আদালতে হাজির হলে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর সোমবার বিষয়টি বিজ্ঞ বিচারক কে ব্যাখা দেওয়ার পর ঐ ফল ব্যাবসায়ী জামিন পান। মামলার অপর আসামি হালি শহর চট্টগ্রাম মহুরি পাড়া শান্তি ব্যাগের সুলতান আহমেদের ছেলে হোসেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বাপ্পি এন্টারপ্রাইজের মালিক বদরুজ্জামান এই মামলার বাদি ফোরকানের কাছে ৩০ লাখ ও তার ভাই আবুল বাসারের কাছে ২১ লাখ টাকা পাওনা রয়েছেন। বিচার শালিশের পর পাওনা বাবদ চেক তাকে দেন ফোরকান। মূলত পাওনা ৫১ লাখ টাকা পরিশোধ না করে তা আত্মসাত করার অপৎপরতা হিসাবে ষড়যন্ত্র করে জাল স্ট্যাম্প ও মিথ্যা মামলাটি করা হয়েছে। আর তা যোগসাজসে করেছে দুই ভাই আবুল বাসার ও ফোরকান।
ভুক্তভুগি ফল ব্যাবসায়ী হাজী বদরুজ্জামান জানিয়েছেন তিনি বাদীর দাবিকৃত স্টাম্পে স্বাক্ষর করেননি। সেটি জাল স্বাক্ষর। সঙ্গত কারণে মামলাটি মিথ্যা। তাকে হয়রানি করতে ও তার যথা পাওনা থেকে বঞ্চিত করতেই বাদি ও তার ভাই আবুল বাসার এসব করেছে। একই সাথে তিনি আদালতে ন্যায় বিচার পাবেন বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন।
একই সাথে ঐ ফল ব্যাবসায়ী হাজী বদরুজ্জামান আইনগত প্রক্রিয়ায় মামলাটি লড়বেন বলে জানান।
প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন, এই আবুল বাসার মূলত যশোর জেলার স্থানীয় নন। তিনি বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের বাসিন্দা। রায়পাড়ায় কমিশনে ব্লাকের সাড়ি বিক্রি করতেন। এর পর তিনি চোরাকারবারে জড়িয়ে যান। তিনি মামলাবাজ বাসার বা বরিশালে বাসার নামে যশোর শহরের রেলগেটে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা প্রচেষ্টা, মারামারি, জমি জবর দখলসহ বিভিন্ন সু নিদৃষ্ট অভিযোগ রয়েছে। মামলা দিয়ে যাকে তাকে হয়রানি করায় কয়েক বছর আগে গাড়িখানায় একটি রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা তাকে মারধোর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সু নিদৃষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েক বছর আগে তাকে যৌথ বাহিনী আটক করে। যা পরদিন পত্র পত্রিকায় প্রকাশ হয়।
যশোরের ফল ব্যাবসায়ীরা অবিলম্বে ফোরকান ও আবুল বাসারের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেছেন। কেননা তারা পুরাতন ফল ব্যাবসায়ী বদরুজ্জামান কে খুব ভাল করে চেনে। তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম। তার দিয়ে এমন অনৈতিক কাজ হতে পারেনা বলে তারা বিস্বাস করে।
Devoloped By WOOHOSTBD