• বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও গুণীজন সংবর্ধনার আমন্ত্রণপত্র প্রদান উপলক্ষে পুলিশ সুপারের সঙ্গে স্বদেশ বিচিত্রা প্রতিনিধিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ বাদাঘাটে বিক্ষোভের মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ সাংবাদিক খুনের আস্ফালন: কার ছত্রছায়ায় অভয় পাচ্ছে খুনি মিজান? ​ চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে সুমাইয়া জান্নাত (১৯) নামে বাঁশখালীর এক কলেজ ছাত্রী নিহত এবং একজন আহত হয়েছে। “র‍্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী অভিযানে নারায়ণগঞ্জের বন্দর হতে অবৈধ মাদকদ্রব্য সহ ৪২০ বোতল স্কাফ উদ্ধার কালিয়াকৈরে কাবিটা ও কাবিখার ২ কোটি ৫৬ লাখ টাকার চেক বিতরণ দৌলতপুর উপজেলা তাঁতী দলের জরুরী সভা নওগাঁর কালীগ্রাম-একডালা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমিসেবা বিষয়ক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হেলিকপ্টার নিয়ে কবে আসবেন?’ শিক্ষামন্ত্রীকে শিশুর প্রশ্ন ভেড়ামারার সেবায় পাশে থাকতে চান সুমন বিশ্বাস, দোয়া ও সমর্থন কামনা

মহিপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে রোগীদের চিকিৎসা সেবা

Muntu Rahman / ৩৫৩ Time View
Update : সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

মিজানুর রহমান রিপন: কলাপাড়া (পটুয়াখালী)।

পটুয়াখালীর মহিপুর থানা শহরের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে প্রতিদিন রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দুর্ঘটনার শঙ্কায় আতংকিত থাকছেন।

দীর্ঘদিন ধরে এ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ  ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে নেই কোনো আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি এবং জনবল সংকটও চরম আকার ধারণ করেছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে ও ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে । কোথাও আবার ঢালাই ও পলেস্তারা খসে পড়ে রড বের হয়ে মরিচা ধরেছে। ভবনের বাহিরদিকের দেওয়ালে গাছের লতা পাতা ও পরগাছা জন্মেছে এযেনো দেখভালের কেউ নেই। তথাপি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দুইতলা বিশিষ্ট এ ভবনে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা।

এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মোট ৮টি পদের মধ্যে ৫টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফ, নাইট গার্ড ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পদ রয়েছে।বর্তমানে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও অফিস সহায়ক সহ মাত্র তিনজনে কোনোরকমে স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখানে নেই কোন চিকিৎসা সেবার আধুনিক যন্ত্রপাতি । ফলে সেবাপ্রত্যাশী রোগীরা আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত ও সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

মহিপুর গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমাদের ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ, শিশু ও শিক্ষার্থীরা এ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসে। দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মিত না হলে চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

ডালবুগঞ্জ থেকে আসা রোগী ইব্রাহীম দফাদার বলেন, বহু বছর আগে নির্মিত ভবনের দেয়াল ও ছাদে বড় বড় ফাটল ধরেছে। ভেঙে পড়ছে ইটের গাথুনি ও ছাদের নির্মাণ সামগ্রী। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবুও বাধ্য হয়ে আমাদের এই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

কুয়াকাটা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোজিনা বেগম বলেন,ভবনে প্রবেশ করলেই মনে হয় মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়বে। তবুও এভাবেই আমাদের  ঝুঁকি নিয়েই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা নুরজাহান বেগম বলেন, জরাজীর্ণ ভবনের কারণে আমরাও আতঙ্কের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছি। একাধিক কক্ষ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে এ ভবনের দোতলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। বর্ষাকালে ছাদ থেকে পানি পড়ে এবং কোথাও কোথাও ভেঙে পড়ে নির্মাণ সামগ্রী। বিষয়টি একাধিকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আবিদা সুলতানা বলেন, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং কিছু কক্ষে ছাদ থেকে ঢালাই ও পলেস্তারা ভেঙে পড়েছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবুও আমাদের চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। অপরদিকে আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি অভাব ও জনবল সংকটের কারণে রোগীদের প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী জানান, কিছুদিন পূর্বে ইঞ্জিনিয়ার এসে ভবনটি পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে আমি ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি প্রেরণ করেছি। এছাড়া আগামী অক্টোবরে নতুন নিয়োগ সম্পন্ন হলে জনবল সংকট নিরসন হবে বলে আশা করছি।

স্থানীয়দের দাবি, একটি থানা শহর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার মতো একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এভাবে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চিকিৎসা সেবা চলছে যা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
এছাড়া সরকারি এ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির অভাব ও পর্যাপ্ত জনবল সংকটের কারণে সেবা প্রত্যাশী রোগীরা আশেপাশের বিভিন্ন ডাইগোনষ্টিক ও ক্লিনিকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছে । অনেকেই আবার উপজেলা ও জেলা শহরের সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অবিলম্বে নতুন ভবন নির্মাণ ও আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি এবং পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় তাগিদ জানান এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Devoloped By WOOHOSTBD