স্টাফ রিপোর্টার নোয়াখালী।
আজ সকাল ৯টায় ১১দলীয় ঐক্য জোটের উদ্যোগে নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, এই নোয়াখালী জেলার আলেম-ওলামাগণ দ্বীনি ইলমের খেদমত কেবল নোয়াখালীতেই সীমাবদ্ধ রাখেননি; তা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিয়েছেন। জাফলং থেকে সুন্দরবন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—যেখানেই যাবেন, সেখানেই জানতে পারবেন তাদের পূর্বপুরুষদের দ্বীনি শিক্ষা দিয়েছিলেন নোয়াখালীর আলেম-ওলামারা।
শফিকুর রহমান বলেন, যারা দেশকে ভালোবাসার প্রমাণ দিতে পেরেছে, তাদের হাতে দেশ গেলে ভালোবাসার একটি দেশ তৈরি করা সম্ভব। মানুষ তা বুঝতে পেরেছে। তাই সারা বাংলায় এখন বাঁধভাঙা জোয়ার শুরু হয়েছে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে। শুধু নোয়াখালী নয়, সারা বাংলায় আমি যেখানে যাচ্ছি, মানুষের ভালোবাসা দেখতে পাচ্ছি। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছে, সেই যুবসমাজ ১৩ তারিখ থেকে একটি নতুন বাংলাদেশ দেখার জন্য মুখিয়ে আছে। তারা বুঝতে পেরেছে—জুলাই চেতনার আকাঙ্ক্ষা কারা বাস্তবায়ন করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য লড়াই শুরু হয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি দরদের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে পে কমিশনকে বলব—যথাযথ সুপারিশ আমাদের কাছে দিন, যাতে একজন মানুষ সরকারি চাকরি করার পর দ্বিতীয় কোনো রুজির সন্ধান করতে না হয় এবং টেবিলের নিচে হাত দিতে না হয়। এরপর যারা সততার পথ ছেড়ে দেবেন, সংশোধন না হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালীর ছয়টি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে জামায়াতের আমির আরও বলেন, এদের চেহারা বড়ই মায়াবী, এরা সমাজ সেবক এরা খোদা ভীরু । ১১ দলের যারা প্রার্থী আছেন, তাদের মধ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকও রয়েছে। যাদের যে প্রতীক দেওয়া হয়েছে, সেটিই ১১ দলের প্রতীক। ১১ দলের কর্মীদের কোনো চাওয়া-পাওয়া বা মান-অভিমান থাকলে আজ আমি দু’হাত তুলে তা নিয়ে যেতে চাই। মিলেমিশে লড়াই করে আধিপত্যবাদ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য এবং মা-বোনদের গায়ে হাত তোলার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে, ভোটগুলো তুলে আনতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান নোয়াখালীর উন্নয়নে ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘নোয়াখালী বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশনের দাবির পাশাপাশি হাতিয়া-কোম্পানীগঞ্জ-সুবর্ণচর নদী ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ, কোম্পানীগঞ্জ-ছোট ফেনী নদীতে ক্লোজার নির্মাণ এবং সোনাপুর থেকে হাতিয়া চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করা হবে।’
সুবর্ণচরের এক নির্যাতিতা মায়ের স্মরণে তিনি বলেন, ‘সুবর্ণচরে একজন দুখিনী মা, যাকে হায়েনারা কষ্ট দিয়েছিল ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণে, ওই মায়ের সম্মানে সেখানে আমরা নির্বাচিত হলে পৌরসভা করব ইনশাআল্লাহ।’
নির্বাচন ও প্রতীক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১২ তারিখ দুটি ভোট হবে। প্রথম ভোটটি হবে সংস্কার ও আজাদীর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট। আর দ্বিতীয় ভোটটি হবে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলির পক্ষে।’
জনসভায় তিনি নোয়াখালী-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফুল্লাহ, নোয়াখালী-৩ আসনের মাওলানা বোরহান উদ্দিন, নোয়াখালী-৪ আসনের মো. ইসহাক খন্দকার এবং নোয়াখালী-৫ আসনের বেলায়েত হোসেনের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং নোয়াখালী-২ আসনে এনসিপির প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া ও নোয়াখালী-৬ আসনে এনসিপির প্রার্থী হান্নান মাসুদের হাতে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন।
নোয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও নোয়াখালী-৪ আসনের প্রার্থী ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম, ১১ দলীয় জোটের সঙ্গী দল গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ খান প্রধান, নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. ছাইফ উল্লাহ,
নোয়াখালী-২ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া,
নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. বোরহান উদ্দিন, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. বেলায়েত হোসেন এবং নোয়াখালী-৬ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ প্রমুখ।
১১ দলীয় জোটের জেলার বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃবৃন্দ উক্ত জনসভায় বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে নোয়াখালী জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম মামুন, বাংলাদেশ নেজাম ইসলাম নোয়াখালী জেলা সভাপতি জনাব মোসাদ্দেকুল মাওলা, খেলাফত আন্দোলন জেলা সভাপতি ইউসুফ আল মাদানী, লেবার পার্টি সভাপতি জহিরুল হক জহির, এলডিপির জেলা সভাপতি অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন, এনসিপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল প্রমুখ।
Devoloped By WOOHOSTBD