• বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
নৌপরিবহন মন্ত্রীর আকস্মিক বেনাপোল স্থল বন্দর পরিদর্শন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে তানোর সাংবাদিক ক্লাব পরিবারের নৌকা ভ্রমণ ও মতবিনিময় সভা রাজনীতিতে আসার গল্প: সংগ্রাম, আদর্শ ও জনসেবার প্রত্যয়ে রাইস হাসান তারেক যাদুকাটার দুই বালুমহালে বালু উত্তোলনে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ভোলাহাট সীমান্তে বিজিবির উদ্যোগে মাসব্যাপী “ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউজ ওয়ারিং প্রশিক্ষণ” শুরু লালপুরে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় প্রাণ গেল পথচারীর জামালগঞ্জে ৭ ব্যবসায়ীকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা ইমাম হয়রানি বন্ধের দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানববন্ধন, জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি যশোর শামস উল হুদা মাঠে ফুটবল ও স্বপ্ন পাঠশালা

রাজনীতিতে আসার গল্প: সংগ্রাম, আদর্শ ও জনসেবার প্রত্যয়ে রাইস হাসান তারেক

Montu Rahman / ৬ Time View
Update : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গোকুল চন্দ্র রায়, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

রাজনীতিতে অনেকের পথচলা শুরু হয় পারিবারিক ঐতিহ্য, সামাজিক বাস্তবতা কিংবা ব্যক্তিগত কোনো ঘটনার মধ্য দিয়ে। তবে রাইস হাসান তারেকের রাজনৈতিক পথচলার গল্পে রয়েছে শৈশবের রাজনৈতিক অনুরাগ, আদর্শের প্রতি বিশ্বাস, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজ অবস্থানে অটুট থাকার অভিজ্ঞতা।

রাইস হাসান তারেক বর্তমানে বিএনপি নেটওয়ার্ক দিনাজপুর-১ (বিএনপি গ্রাসরুটস নেটওয়ার্ক-BGN)-এর কো-অর্ডিনেটর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল বীরগঞ্জ পৌর শাখার ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক, বীরগঞ্জ পৌর বিএনপির সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এবং জিয়া সাইবার ফোর্স বীরগঞ্জ উপজেলা শাখার সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান।
সম্প্রতি তাঁর রাজনৈতিক পথচলা, আদর্শ, সংগ্রাম, চ্যালেঞ্জ, তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে কথা হয়। সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানা অধ্যায় তুলে ধরেন তিনি।

শৈশব থেকেই রাজনৈতিক অনুরাগ
রাইস হাসান তারেক বলেন, রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের আদর্শিক পথচলার ফল। বীরগঞ্জ পাইলট স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শৈশবে পরিবারের বড়দের কাছ থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম ও সততার নানা গল্প শুনেছেন তিনি। পাশাপাশি টেলিভিশনে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা এবং নেতৃত্ব তাঁকে প্রভাবিত করে।
তিনি জানান, ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপির সিনিয়র নেতা তারেক রহমান খানসামা জিয়া সেতু উদ্বোধনে গেলে সেখানে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেই সময় নিজের চেয়ে কিছুটা বড় এক মামার সঙ্গে সাইকেলে করে চৌধুরীহাট পর্যন্ত ছুটে যাওয়ার স্মৃতিও তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে আছে।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় আদর্শের প্রতি টান আরও গভীর হয়
রাইস হাসান তারেকের ভাষ্য, ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের রাজনৈতিক সংকটের সময় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে নানা ঘটনা তাঁকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করে। টেলিভিশনে তারেক রহমানকে ঘিরে নির্যাতনের খবর এবং খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবস্থান তাঁর মধ্যে দলের প্রতি আরও গভীর অনুরাগ তৈরি করে।
তিনি বলেন, দলের কঠিন সময়ে পাশে থাকার তাগিদ থেকেই তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়। ২০০৯ সাল থেকে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন বলে জানান।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সিনিয়রদের দিকনির্দেশনায় স্থানীয় কয়েকজন তরুণকে সঙ্গে নিয়ে একটি সক্রিয় রাজনৈতিক পরিসর তৈরি হয়। বীরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত জুলিয়াস জুয়েলের নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধান তাঁর রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গ্রেপ্তার ও কারাভোগের স্মৃতি
নিজের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনাগুলোর কথা বলতে গিয়ে রাইস হাসান তারেক ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবরের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, মাত্র ২২ বছর বয়সে তৎকালীন জেলা বিএনপির নেতা এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির সঙ্গে একই হাতকড়া পরে তিনি গ্রেপ্তার হন। তাঁর দাবি, প্রায় তিন মাস কারাভোগের পর জামিন পেলেও জেলগেট থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে।
এই ঘটনাকে তিনি নিজের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেন।
২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক আন্দোলনের সময়ও রাজপথে সক্রিয় থাকার নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে আন্দোলনের সময় জিয়া সাইবার ফোর্স বীরগঞ্জ উপজেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাজাহান চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনাকে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বেদনাবিধুর স্মৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

২৫ ডিসেম্বর ২০২৫—স্মরণীয় এক দিন
রাজনৈতিক জীবনের আনন্দের স্মৃতি বলতে গিয়ে রাইস হাসান তারেক ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বরের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় পর তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিন তিনি ঢাকার ৩০০ ফিট এলাকায় উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, সেই দিনের আবেগ ও আনন্দ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
এছাড়া ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. মনজুরুল ইসলামের নির্বাচিত হওয়ার দিনটিকেও নিজের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আনন্দের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—প্রতিকূলতার মধ্যেও আদর্শে থাকা
নিজের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাইস হাসান তারেক বলেন, চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের আদর্শে অবিচল থাকাটাই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
তিনি মনে করেন, ক্ষমতা কিংবা সুবিধার পরিবর্তে দীর্ঘ সময় ধরে একটি রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে থাকা এবং নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করাই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় অভিজ্ঞতা।
নিজের ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—প্রতিকূলতার মুখেও ভেঙে না পড়ে নিজের বিশ্বাসে অটল থাকার মানসিকতা।

সমালোচনাকে দেখেন শেখার সুযোগ হিসেবে
রাজনীতিতে সমালোচনাকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখেন বলে জানান। তাঁর মতে, গঠনমূলক সমালোচনা থেকে শেখার সুযোগ রয়েছে। তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ভিত্তিহীন সমালোচনাকে তিনি গুরুত্ব না দিয়ে নিজের কাজের মাধ্যমে জবাব দিতে চান।
তিনি বলেন, মানুষের জন্য কাজ করা এবং নিজের রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি আস্থা রাখাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

তরুণদের রাজনীতিতে আসার আহ্বান
তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে রাইস হাসান তারেক বলেন, তরুণদের রাজনীতিতে আসা সময়ের প্রয়োজন। তবে রাজনীতিতে আসার ক্ষেত্রে মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
তাঁর ভাষায়, রাজনীতি শুধু ক্ষমতা অর্জনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে ত্যাগ, দায়িত্ব ও মানুষের পাশে থাকার মানসিকতাও জড়িত। তরুণদের সুবিধাবাদী মনোভাব পরিহার করে আদর্শ ও জনকল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে রাজনীতিতে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ভবিষ্যতের স্বপ্ন—পদ নয়, মানুষের পাশে থাকা
ভবিষ্যতে নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট পদ বা ক্ষমতার আসনে দেখতে চান না বলে জানান রাইস হাসান তারেক। বরং জনগণের কাছে একজন বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত হতে চান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক জীবনে শওকত জুলিয়াস জুয়েলের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর রাজনৈতিক পথচলায় জুয়েল ভাইয়ের শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
একইসঙ্গে দিনাজপুর-১ আসনের বিএনপির নেতা মো. মনজুরুল ইসলামের নেতৃত্বে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

জনগণের জন্য যে লক্ষ্য
জনগণের জন্য নিজের প্রধান লক্ষ্য সম্পর্কে রাইস হাসান তারেক বলেন, বীরগঞ্জ-কাহারোল এলাকার মানুষের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চান তিনি।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক নেতৃত্বের উন্নয়ন ও সুশাসনের বার্তা তৃণমূল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, অন্যায়-জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা, আইটি ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এবং বিপদের সময় একজন আপনজন হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মূল উদ্দেশ্য।

শেষকথা
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাইস হাসান তারেক বলেন, রাজনীতি তাঁর কাছে শুধু কোনো পদ-পদবি কিংবা ক্ষমতার বিষয় নয়; বরং এটি তাঁর জীবনের একটি দীর্ঘ পথচলা। নানা প্রতিকূলতা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক বিশ্বাসকে ধারণ করেছেন, ভবিষ্যতেও সেই বিশ্বাসের সঙ্গে থেকে জনগণের জন্য কাজ করে যেতে চান তিনি।
তাঁর ভাষায়, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের পাশে থেকে একজন সৎ, লড়াকু ও বিপদে-আপদে পাশে থাকা রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেই নিজেকে দেখতে চান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Devoloped By WOOHOSTBD