সাপে কাটা একটি ভয়ানক অথচ উপেক্ষিত স্বাস্থ্যঝুঁকি—যা প্রতিবছর প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে হাজারো মানুষের। এই বাস্তবতা সামনে এনে বগুড়ার পরিবেশবান্ধব ছাত্র সংগঠন টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (তীর) সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে, বগুড়া জেলার সকল সরকারি ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুদ নিশ্চিত করার।
‘তীর’ সংগঠনের পক্ষ থেকে বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবর জমা দেওয়া লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্ষাকালে সাপের আবাসস্থল ধ্বংস বা সংকুচিত হওয়ায় সাপ মানুষের আবাসভূমিতে চলে আসে, ফলে বাড়ে মানুষ-সাপের সংঘর্ষ এবং প্রাণহানি।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, প্রতিবছর সর্পদংশনে প্রায় ৬-৭ হাজার মানুষ মারা যায়, যা রোধযোগ্য। কিন্তু অ্যান্টিভেনমের সংকট ও সচেতনতার অভাবে অনেকেই কবিরাজ বা ওঝার কাছে যান, ফলে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে অনেকেরই মৃত্যু ঘটে—যার অনেক তথ্য রেকর্ডবিহীন রয়ে যায়।
‘তীর’ সভাপতি বলেন,
“সাপ ভয়ংকর হলেও এটি আমাদের পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সাপের সংরক্ষণ যেমন জরুরি, তেমনি সাপে কাটা রোগীদের জীবন বাঁচাতেও জরুরি দ্রুত চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম সরবরাহ।”
এছাড়া, সাপে কাটা রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান নিশ্চিত করার জন্যও জোর দাবি জানানো হয়।
এই দাবির বিষয়ে অবহিত করতে ‘তীর’ সংগঠনটি সিভিল সার্জন, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুলিপি প্রেরণ করেছে।
উল্লেখ্য, পরিবেশ ও প্রাণী সংরক্ষণের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘তীর’ ২০২১ সালে জাতীয় পর্যায়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে পুরস্কার লাভ করে। সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়াভিত্তিক এ সংগঠন শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছে।
Devoloped By WOOHOSTBD