সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের ধুলগাগড়াখালী ঈদগাহ মাঠে গত ২২ ফেব্রুয়ারি (রোববার) বিকেলে এক মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে শিমুল (২২) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।
আহতের বাবা মো. ইকবাল হোসেন (৪০), পিতা— মো. আজগর আলী, গ্রাম— ধুলগাগড়াখালী, থানা— বেলকুচি, জেলা— সিরাজগঞ্জ। তিনি ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সাংবাদিকদের জানান, তাঁর ছেলে প্রতিদিনের মতো ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে দৌলতপুর বাজারে ইফতারের সামগ্রী কিনতে যায়। ইফতারের সময় পেরিয়ে গেলেও ছেলে বাড়ি না ফেরায় তিনি বাজারের দিকে খোঁজ নিতে যান।
বাজারের লোকজনের মুখে তিনি জানতে পারেন, রফিকুলের ইলেকট্রনিকস দোকানের সামনে থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ছেলেকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে মোটরসাইকেলে করে খোঁজ করতে গিয়ে তিনি ঈদগাহ মাঠে ছেলেকে মারধরের শিকার হতে দেখেন।
তিনি জানান, সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখেন অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তাঁর ছেলে শিমুলকে লোহার রড, হাতুড়ি ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করছে। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
একপর্যায়ে শিমুন অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বেলকুচি থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—
মো. রাশেদুল ইসলাম রাশু (২৪), পিতা— ইব্রাহীম হোসেন;
মো. মেহেরাফ আলী (২৫), পিতা— মো. মোতাহার আলী;
মো. আমির হামজা (২৬), পিতা— মো. নিজাম উদ্দিন;
মো. বাবু আলী (২৩), পিতা— মো. আক্কাছ আলী;
মো. মুরাদ আলী (২৪), পিতা— মো. হারুন আলী;
মো. রমজান আলী (২১), পিতা— মো. আকবর আলী;
মো. মাহফুজ আলী (২৫), পিতা— মো. শাহজাহান আলী;
মো. আবির হোসেন (২৭) ও মো. আরমান হোসেন (২৮), উভয়ের পিতা— মো. সিরাজুল হোসেন;
মো. সাগর আলী (২৪), পিতা— মো. শাহজাহান হোসেন।
সকলের ঠিকানা— গ্রাম: ধুলগাগড়াখালী, থানা: বেলকুচি, জেলা: সিরাজগঞ্জ।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Devoloped By WOOHOSTBD