ফ্যাসিস্ট নির্যাতনে এক উজ্জ্বল ভুক্তভুগি যুবদল আঞ্চলিক নেতা সনেট। মামলা হামলা দুর্ভোগের পর এখন তাকে লড়তে হচ্ছে দলের ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা অপশক্তির বিরুদ্ধে। এই সাহসী যুবদল সেনা তাই হতাশ। ভোটে আশা ভঙ্গ হয়েছে তার। এখন নিরাশ প্রতিকী জাতীয়তাবাদী কর্মী।
যশোর সদর উপজেলার শহরতলীর চাঁচড়া পশ্চিম পাড়ায় বাড়ি সনেটের। পুরো নাম আশিকুর রহমান সনেট। তিনি বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১০নং চাঁচড়া ইউনিয়ন শাখার যুগ্ম সম্পাদক। বন্ধুরা বলে জয়েন্ট সেক্রেটারি সনেট।
তার পিতা মৃত মতিয়ার রহমান ও মাতা মৃতা রুমিচা বেগম। চাঁচড়া পশ্চিম পাড়া ৭নং ওয়ার্ডভুক্ত বাদন্দ পাড়ার বাসিন্দা তিনি।
ফ্যাসিস্ট আমলে তার নামে হয় মামলা সাত সাতটা। চাঁচড়ার সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক ফুল ও আরেক আওয়ামীলীগ নেতা আনু মিয়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভেবে এসব মামলায় তাকে আসামি করেছে। এরা তার বাড়ি তাকে ধরেছে অগণিত বার।
সনেট জানালেন তার অভিজ্ঞতার সেই সব বিভীষিকাময় দিনের কথা। একদিন চেকপোস্টস্থ জয়নালের চায়ের দোকানের পাশ থেকে সন্ধ্যা আটটার দিকে তাকে ধরে নিয়ে যায় চাঁচড়া ফাঁড়ির এস আই সোয়েব। পরদিন ভোর ৫টায় বলে তোর নামে মামলা। অস্ত্র দিয়ে তাকে মামলায় চালান দেওয়া হয় সেবার।
এরপর মসজিদ কমিটির হিসাব চাইলে আওয়ামী শ্রমিক লীগ নেতা সেলিম রেজা পান্নু, মতি পুলিশ ২০৪১ সাল পর্যন্ত মামলা দেওয়ার হুমকি দেয়। মসজিদের বাইরে বের হয়ে তাদের সেই হুমকি মুসুল্লিরা শোনে ও দেখে।
সনেট জানান, ফ্যাসিস্ট পতনের আগে ২০২৪ সালে খুলনায় বিএনপির কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করেন। সেখানে পুলিশের মার খেয়ে আত্ম রক্ষায় রূপসা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে বাঁচার স্বার্থে প্রানপন সাঁতরে গভীর নদীতে যায়। মাঝ নদীতে খাবি আর পানি খাওয়ার এক পর্যায়ে জনৈক নৌকার মাঝি তাকে রক্ষা করে ডাঙ্গায় পৌঁছে দেয়।
আশিকুর রহমান সনেট জানালেন এখন তাকে দলের আঞ্চলিক একটি অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। সর্বশেষ ত্রয়দশ জাতীয় নির্বাচনে তাকে কোনঠাসা করা হয়। অথচ ভোটের দিন তিনি লোকজন বাড়ি থেকে ডেকে ডেকে কেন্দ্রে পাঠান। বিএনপির দুর্গ চাঁচড়া অথচ সেখানে মাত্র দুইশ ভোটে পাশ করেছে ধানের শীষ প্রতীক। তিনি দুঃখ করে বলেন, চাঁচড়া ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি আব্দুল সামাদ টগর ও ইউনিয়ন সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান সমীর লাল্টু কে সাথে নিয়ে তাকে ভোট ক্যাম্পেইন থেকে সরিয়ে রাখে। অথচ ঐ সমীরের আপন ছোট ভাই তুহিনের স্ত্রী সুমনা মহিলা জামায়াতের সদর থানা আমীর। এরা দাঁড়িপাল্লা মার্কার ভোট করেছে। এর প্রভাবে চাঁচড়ায় ভোটার সাত হাজার প্লাস। পুরুষ কেন্দ্রে ২৭৩ বা ১৭৩ মহিলা কেন্দ্রে ফেল।ধানের শীষ ১৭০০ ভোটে ফেল এই ইউনিয়নে। আশাব্যাঞ্জক ভোটার আসেনি ভোট দিতে। এটিও হতাশার কথা।
বর্তমানে সনেটের বয়স ৪২ বছর। বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সম্প্রীক্ত। ডিবি ২০১৪ সালে নিয়ে যায় তাকে। Rab ধরে নিয়ে মামলা দিয়েছে একবার। ৫আগস্ট এর দুই মাস আগে কতোয়ালি মডেল থানার তদন্ত ওসি পলাশ তাকে ধরে নিয়ে নিয়ে যায়। এক মাস ছয় দিন জেলে ছিল সেবার।
দলের আঞ্চলিক এসব দশা দেখে শঙ্কিত সনেট। তিনি এখুনি জেলা নেতৃবৃন্দ কে এসব বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানান। নইলে আগামী দিনে তৃণমূলে দল বিপর্যস্ত হবে বলে তার মতামত।
Devoloped By WOOHOSTBD