• বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
দৌলতপুরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে নিঃস্ব পরিবার চাঁচড়ার আশাভঙ্গ যুবদল নেতা সনেট কিশোরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার স্ত্রী ইফতির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার পদ্মার পাড়ে তরুণ তরুণীকে জিম্মি করে ছিনতাই খাল খননসহ টেকসই উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান সংসদ সদস্য নূরুলের ভোলাহাট সীমান্তে ডিএনসির অভিযানে ইয়াবাসহ নারী আটক ০১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির পৃথক পৃথক অভিযানে ভারতীয় ১০ গরু জব্দ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় চকলেট বাজি ও  পাতার বিড়ি সহ আটক ১ বাঁশখালী উপজেলায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযান খামেনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন কোথায়, যা জানা গেল

ক্ষমতার দাপটে ধরাছোঁয়ার বাইরে! শৈলকুপা ইউএনও অফিসের পিয়ন আক্তারের সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের নেপথ্যে কারা? তদন্তের দাবি

Muntu Rahman / ১২৩ Time View
Update : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫

এ.এস আব্দুস সামাদ শৈলকুপা ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসে পিয়ন পদে কর্মরত আক্তারুজ্জামান ওরফে আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক দশকেরর বেশি সময় ধরে একই অফিসে গেড়ে বসা এই পিয়নের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, তিনি সরকারি কর্মচারী হয়েও সরকারি কাজের ঠিকাদারি করছেন এবং এহেন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা।

ইউএনও অফিসের এই পিয়ন কীভাবে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের ঠিকাদারের ভূমিকা পালন করছেন, তা নিয়ে সর্বমহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে পিয়ন আক্তার নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ করে গরিবের টাকা মেরেছেন এবং অবৈধভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন

এমনকি আশির দশকে নির্মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ডরমেন্টরির ছাদ ঢালাই , শিল্পকলা একাডেমির পুরাতন ভবন সংস্কার ও ইউএনও’র বাসভবন মেরামতের কাজেও লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল ক্রয়ের নামে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ইউএনও অফিসের পুকুর ঘাট ও বাউন্ডারি ওয়ালের কাজ করেও তিনি মোটা অংকের টাকা পকেটে পুরেছেন।

আক্তার হোসেনের মূল পোস্টিং ১০ নং বগুড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে হলেও, তিনি সেখানে একদিনের জন্যও চাকরি করেননি! দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি ইউএনও অফিসে থেকেই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে নিজের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে রেখেছেন। ইউএনও অফিসের যাবতীয় মালামাল ক্রয়সহ সবকিছুই এই পিয়ন একাই নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।
তৎকালীন ইউএনও সাইফুল ইসলাম তাকে বদলি করলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সাবেক এমপি আব্দুল হাই কে ম্যানেজ করে আবার একই অফিসে ফিরে এসে পূর্বের মতোই অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন।

এর আগেও এক ইউএনওকে প্রভাবিত করে শৈলকুপা নতুন বাজারে সরকারি জায়গা বরাদ্দ করিয়ে সেখানে গোডাউন নির্মাণ করে চড়া দামে বিক্রি করে দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেন বলে জানা যায়।

অফিস যেন আক্তার মরিয়ম দম্পতির ব্যক্তিগত সম্পত্তি! পিয়ন আক্তারের স্ত্রী মরিয়ম বেগমও দীর্ঘদিন ধরে একই অফিসে কর্মরত। মরিয়ম বেগম অফিসের কোনো কাজ না করলেও কেবল আক্তারের দাপট ও ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই স্থানীয় হওয়ায় তারা নিজেদের ইচ্ছামতো অফিস করে থাকেন। তাদের বিরুদ্ধে কনফারেন্স রুম অথবা উপজেলা চেয়ারম্যানের হাস কামরায় এসি ছেড়ে দিয়ে বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে ‘আয়েশি’ সময় কাটানোর মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।

এভাবে একের পর এক গুরুতর অনিয়ম করেও এই পিয়ন আক্তার হোসেন সব সময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। তার লাগামহীন ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে শৈলকুপা ইউএনও অফিসের স্বাভাবিক পরিবেশ ও সরকারি সেবার মান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় মহল জোর দাবি জানিয়েছেন, অতিসত্বর এই দুর্নীতিবাজ পিয়ন আক্তার হোসেনকে অবিলম্বে অন্যত্র বদলি করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক এবং ইউএনও অফিসের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক। প্রশ্ন উঠেছে— প্রশাসনের নাকের ডগায় একজন পিয়ন কীভাবে বছরের পর বছর ধরে এমন গুরুতর আর্থিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতি চালিয়ে যেতে পারেন? এর পেছনে কোনো ক্ষমতাশীল মহলের ইন্ধন রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা জরুরি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Devoloped By WOOHOSTBD