নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে ভুয়া প্রত্যয়ন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অর্থের বিনিময়ে প্রত্যয়ন পত্র বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মৃত তোতা মিয়াকে ফজলুল করিম সরকার উল্লেখ করে প্রত্যয়ন দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর /২৬) খ্রীঃ দুপুরে তার ছেলে মনির হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আসিফ আল জিন্নাত (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে মনির হোসেন উল্লেখ করেন, তাদের সব ধরনের কাগজপত্রে তার বাবার নাম তোতা মিয়া। বাবার মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের স্বাক্ষর করা মৃত্যু সনদেও তোতা মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়। একইভাবে ওয়ারিশ সনদেও তার বাবার নাম তোতা মিয়া রয়েছে।
সম্প্রতি নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী মৌজায় তাদের ১৫ শতাংশ জমি নিয়ে আব্দুল হালিম গংয়ের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। মনির হোসেনের দাবি, আরএস রেকর্ড অনুযায়ী তার বাবা ওই সম্পত্তির মালিক। তবে একটি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে এনালগ পদ্ধতিতে জমিটি নামজারি করে নেন হালিম গং। দলিলে দাতা হিসেবে ফজলুল করিম সরকারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মনির হোসেনের অভিযোগ, দলিলে ফজলুল করিম সরকারের নাম থাকায় তোতা মিয়া ও ফজলুল করিম সরকারকে একই ব্যক্তি উল্লেখ করে প্রত্যয়ন দেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান অর্থের বিনিময়ে । প্রত্যয়নে ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নাছিমার শনাক্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বিষয়টি জানাজানি হলে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল কালামের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির সদস্যরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন তৈরি করেন। তদন্তে তোতা মিয়া ও ফজলুল করিম সরকার একই ব্যক্তি নন বলে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। দুই নামের ব্যক্তি আলাদা ব্যক্তি বলে প্রমাণিত হয়েছে।
মনির হোসেন দাবি করেন, নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তার খালাতো ভাই বারদী ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি নাজমুল হক ও একই ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফ সরকারের প্ররোচনায় প্রত্যয়ন দিয়েছেন।
অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভুয়া দলিলের মাধ্যমে জমি নামজারি করে নেওয়ার পর তিনি এসিল্যান্ড কার্যালয়ে একটি মিসকেস মোকদ্দমা দায়ের করেন। রেকর্ডীয় সব ধরনের কাগজপত্রে তার বাবা তোতা মিয়ার নাম থাকার পরও মামলার রায় ভিন্ন দিকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান তোতা মিয়া ও ফজলুল করিম সরকারকে একই ব্যক্তি উল্লেখ করে প্রত্যয়ন দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মনির হোসেনের দাবি, তার বাবার জমির পর্চা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রে তোতা মিয়া নামটি রয়েছে।
সাংবাদিকরা এ বিষয়ে বারদী ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি নাজমুল হকের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, এলাকায় তদন্ত করতে গেলে বেশির ভাগ মানুষ তোতা মিয়া ও ফজলুল করিম সরকার একই ব্যক্তি নন বলে জানিয়েছেন। তদন্ত শেষে একই ব্যক্তি নন উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নাছিমা জানিয়েছেন, তিনি প্রত্যয়নটি শনাক্ত করেননি। তার ভাষ্য, চেয়ারম্যান নিজেই প্রত্যয়নটি লিখে দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেছেন, একটি দলিলের ভিত্তিতে তোতা মিয়া ও ফজলুল করিম সরকারকে একই ব্যক্তি উল্লেখ করে প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছিল। পরে প্রত্যয়নটি সঠিক হয়নি জানতে পেরে সেটি স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আবার তদন্ত চলছে।
শ্রমিক লীগ ও যুবলীগ নেতাদের প্রভাবের অভিযোগের বিষয়ে আতাউর রহমান বলেছেন, তারা তার পাশের বাড়ির আত্মীয়। এতে তার কোনো স্বার্থ নেই।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত জানিয়েছেন, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ডা: কামরুল ইসলাম মনা
সহ-সম্পাদকঃ ইয়াছির আরাফাত মিফতা
নির্বাহী সম্পাদকঃ মো. জাকির হোসেন মিথুন
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মন্টু রহমান
Copyright © 2026 দৈনিক হালচাল নিউজ. All rights reserved.