স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের বোরখাড়া গ্রামের পাশের একটি খালে বাঁশের বেড়া দিয়ে নৌকা পারাপারের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজ মিয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে খালটি ইজারা দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তবে খালটির ইজারার বৈধতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোরখাড়া গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ছোট খালটিতে সম্প্রতি বাঁশের বেড়া দিয়ে নৌকায় পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে পারাপারকারীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তাঁদের দাবি, আগে কখনো সেখানে এভাবে বাঁশের বেড়া দিয়ে নৌকা পারাপারের নামে অর্থ আদায় কিংবা ইজারার ব্যবস্থা ছিল না। হঠাৎ এমন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজ মিয়া বলেন, **‘সাংবাদিকরা লিখে কী করতে পারবে?’** এ সময় তিনি খালটি ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন। তবে ইজারার অনুমোদন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিংবা বৈধ কাগজপত্রের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাসুদ মিয়া খালটি ইজারা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, **‘এখানে কোনো ইজারা নেই।’** ফলে খালটির ইজারা নিয়ে বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, হাফিজ মিয়া দাবি করেছেন, ইজারা থেকে আদায় করা অর্থ স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে কোন মাদ্রাসায়, কী প্রক্রিয়ায় এবং কত টাকা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ইজারার লিখিত অনুমোদন, অর্থ আদায়ের হিসাব ও সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, খালটি যদি বৈধভাবে ইজারা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ কে এবং কী শর্তে ইজারা দেওয়া হয়েছে? আর ইজারা না থাকলে কোন ক্ষমতাবলে খালে বাঁশের বেড়া দিয়ে নৌকা পারাপারের নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে?
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. বি. এম. এস. আর. আলিফ বলেন, **‘ঠিকানা দিন, আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
এলাকাবাসী খালটির ইজারার বৈধতা, বাঁশের বেড়া স্থাপনের অনুমতি এবং অর্থ আদায়ের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, খালটি সরকারি বা জনসাধারণের ব্যবহারযোগ্য জলপথ হলে সেখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং অর্থ আদায়ের আইনগত ভিত্তি যাচাই করা জরুরি।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং খালটির মালিকানা ও ইজারার প্রকৃত অবস্থা সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র যাচাই ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ডা: কামরুল ইসলাম মনা
সহ-সম্পাদকঃ ইয়াছির আরাফাত মিফতা
নির্বাহী সম্পাদকঃ মো. জাকির হোসেন মিথুন
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মন্টু রহমান
Copyright © 2026 দৈনিক হালচাল নিউজ. All rights reserved.