কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:
নির্বাচনের হাওয়া বইছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতির মাঠ এখন জমজমাট। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম—সবখানেই এখন ভোটের হিসাব-নিকাশ। তবে এবারের নির্বাচনে সাধারণ ভোটার ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মুখে মুখে যার নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক আরিফুর রহমান কাঞ্চন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সততা, একনিষ্ঠতা আর অসামান্য আত্মত্যাগের কারণে যিনি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় "তৃণমূলের অকৃত্রিম অভিভাবক" হিসেবে এক অনন্য স্থান তৈরি করে নিয়েছেন।
এক দীর্ঘ পথচলা আরিফুর রহমান কাঞ্চনের রাজনীতিতে পদার্পণ ১৯৮৮ সালে ছাত্রদলে যোগদানের মধ্য দিয়ে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই দূরদর্শী নেতা ১৯৯৪ সালে থানা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় টানা দুই মেয়াদে সভাপতি এবং তৃতীয় মেয়াদে আহ্বায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করেন।
ছাত্ররাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় শেষ করে ২০০৪ সালে তিনি উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মনোনীত হন। এরপর ২০০৯ সালে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০১১ সালে বিপুল ভোটে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সাথে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
আরিফুর রহমান কাঞ্চনের রাজনৈতিক জীবন কোনো কুসুমাস্তীর্ণ পথ ছিল না। বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি বারবার কারাবরণ করেছেন এবং চরম জুলুম-নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। এমনকি ফ্যাসিবাদের রোষানলে পড়ে তার ব্যবসা-বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু কোনো ঝড়-ঝাপ্টাই তাকে আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। দলের দুঃসময়ে যখন অনেকেই মাঠ ছেড়েছেন, তখন আরিফুর রহমান কাঞ্চন নিজের পৈতৃক জমি বিক্রি করে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শত কষ্টের মাঝেও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন, নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে সবার সুখ-দুঃখের ভাগীদার হয়েছেন।
নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী গণ-আন্দোলনে রাজপথে তার অবদান ছিল অগ্রগণ্য। প্রতিটি আন্দোলনে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে দিন-রাত এক করে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন।
আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ মানুষের দাবির মুখে আরিফুর রহমান কাঞ্চন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এলাকার ভোটার ও সাধারণ জনগণের বিশ্বাস—একজন সৎ, শিক্ষিত এবং পরীক্ষিত নেতা হিসেবে তিনি নির্বাচিত হলে এই উপজেলা একটি আধুনিক মডেলে পরিণত হবে।
চেয়ারম্যান হিসেবে তার মূল লক্ষ্যসমূহ:
গ্রামীণ রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ।
এছাড়াও উপজেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়ন ও রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাবমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলা হবে তার মূল লক্ষ।
সর্বস্তরের মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক উপজেলা প্রশাসন গড়ে তোলা।
কটিয়াদীর সাধারণ ভোটার ও আমজনতার মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন একজন জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন যিনি ক্ষমতার চেয়ে জনগণের সেবাকে বড় করে দেখেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি—যিনি দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের বাঁচাতে এবং মানুষের কল্যাণে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি পর্যন্ত বিলিয়ে দিতে দ্বিধা করেননি, তার হাতেই উপজেলার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের অধিকার সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। আর এই বিশ্বাস থেকেই কটিয়াদীর সর্বস্তরের মানুষ এবার আরিফুর রহমান কাঞ্চনকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ডা: কামরুল ইসলাম মনা
সহ-সম্পাদকঃ ইয়াছির আরাফাত মিফতা
নির্বাহী সম্পাদকঃ মো. জাকির হোসেন মিথুন
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মন্টু রহমান
Copyright © 2026 দৈনিক হালচাল নিউজ. All rights reserved.