ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্টের প্রতিবাদ করায় উল্টো ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি ও মারধরের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে যশোর জজ কোর্টের আইনজীবী কাজী সাইফুল ইসলাম তুহিনের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন শহরের বেজপাড়া পিয়ারী মোহন রোড এলাকার ভুক্তভোগী আব্দুল মামুন ও কাজী আশরাফুল ইসলাম সুমন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, অ্যাডভোকেট কাজী সাইফুল ইসলাম তুহিনের বড় মেয়ে মারিয়া মুনতাসারি গত ২৯ জুন বিদেশ থেকে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি এবং ‘আমরাই যশোর পরিবার’ নামক ফেসবুক গ্রুপে মামুন ও সুমনসহ তাদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের ছবি দিয়ে নানাবিধ অশ্লীল ও আপত্তিকর পোস্ট করেন।
বিষয়টি নজরে আসায় গত ১ জুলাই তারা শহরের মুজিব সড়ক মডেল মসজিদের সামনে মারিয়ার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম তুহিন তাদের সাথে কথা না বলে উল্টো পুলিশ ডেকে আনেন এবং তাদের বাসা থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে পুলিশকে মারিয়ার করা আপত্তিকর পোস্টগুলো দেখালে পুলিশ তাদের চলে যেতে বলে। এই ঘটনার পরও মারিয়া ফেসবুকে একই ধরনের পোস্ট ও মন্তব্য করতে থাকলে কোনো সমাধান না পেয়ে ভুক্তভোগীরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জেরে এবং জিডি করায় ক্ষিপ্ত হয়ে অ্যাডভোকেট কাজী সাইফুল ইসলাম তুহিন গত ৮ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে চাঁদাবাজি মামলা করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ জুন বিকেলে আইনজীবী সমিতি থেকে বাড়ি ফেরার পথে রেলগেট মডেল মসজিদের সামনে মামুন ও সুমন তার গতিরোধ করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং চাঁদা না দিলে স্ত্রী-কন্যার ক্ষতি করার হুমকি দেন। এমনকি চাঁদা না পেয়ে গত ৬ জুলাই দুপুরে লোহার রড দিয়ে ওই আইনজীবীকে বেদম প্রহার ও জখম করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও মামলায় দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মামুন ও সুমন বলেন, মামলায় যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক, অসত্য ও বানোয়াট। ওই আইনজীবী মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে এলাকায় আমাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছেন। যাতে আমরা এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হই। আমরা সমাজের কাছে এই মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা জানাই। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা থেকে পরিত্রাণ ও জীবনের নিরাপত্তা একই সাথে দাবি করছি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী দুই পরিবারের সদস্য সুমনের স্ত্রী অদিতি, সোহেলের স্ত্রী শিলা, নানী জরিনা উপস্থিত ছিলেন
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ডা: কামরুল ইসলাম মনা
সহ-সম্পাদকঃ ইয়াছির আরাফাত মিফতা
নির্বাহী সম্পাদকঃ মো. জাকির হোসেন মিথুন
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মন্টু রহমান
Copyright © 2026 দৈনিক হালচাল নিউজ. All rights reserved.