কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে লিজ দেওয়ায় জলাশয় টা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ইজারাদার জলাশয় টা কে বাণিজ্যিক পার্কে রুপান্তরিত করায় এলাকা বাসী ইজারাদার এর ইজারা বাতিলের জোর দাবী জানিয়েছেন।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের অধীনে থাকা ৫০ একরের সরকারি জলাশয়টি মাছ চাষের নামে ইজারা নিয়ে মাটি ভরাট ও বাণিজ্যিক পার্ক নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা সাধারণ প্রতিষ্ঠান এ ইজারায় অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এই লিজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ইজারা নেওয়ার পর থেকে প্রকাশ্যেই লেক ভরাটের কাজ চললেও নীরব ভূমিকা পালন করছে জিকে কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভেড়ামারার জিকে লেক নামে পরিচিত ৪৯.৬৯ একরের এ বিশাল সরকারি জলাশয়টি মূলত মাছ চাষের জন্য ইজারা দেওয়ার বিধান রয়েছে। সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি অনুযায়ী নিবন্ধিত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ছাড়া অন্য কোনো একক ব্যক্তি বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এই ধরনের ইজারায় অংশ নিতে পারে না। অথচ নিয়ম না মেনে জিকে প্রকল্পের কর্মকর্তারা মেসার্স সালেহা কনস্ট্রাকশনের মালিক সালেহা খাতুনের নামে চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে তিন বছরের জন্য লেকটি ইজারা দেন। ইজারা পাওয়ার পরপরই ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মনি গ্রুপের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি জলাশয়টির শ্রেণি পরিবর্তন করে মাটি ভরাট শুরু করেন এবং সেখানে ‘মনি ওয়ার্ল্ড লেক পার্ক’ নামে একটি বাণিজ্যিক পার্ক নির্মাণের কাজ চলছে পুরোদমে। এরই মধ্যে জলাশটির একাংশ এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ভরাট সম্পন্ন হয়েছে এবং ৪ টা পুকুর খনন করেছে বলে জানা যায়। পানি নিষ্কাশনের জন্য পাশের সরকারি ক্যানেলটিও ভরাট করে সংকুচিত করে ফেলেছে।
এই ভরাট এর ফলে বাহিরচর ইউনিয়ন, পৌরসভার ফারাকপুর এবং নওদাপাড়ার পানি নিষ্কাশনের জন্য বৃহৎ ক্যানেল টা ভরাট করে চিকন করে ফেলেছে। পানি নিষ্কাশনের একমাত্র সাইফুন টাও অকার্যকর করে ফেলায় উক্ত এলাকা সমুহ পানি বন্দি হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিরুল আরাফাত বলেন, বিষয় টা আমি জেনেছি এবং সরেজমিনে গিয়ে পার্কের বিভিন্ন রাইডস সরিয়ে ফেলতে বলেছি।
তিনি আরো বলেন, একজন লিজ গ্রহীতা কোনোভাবেই মৎস্য চাষের জন্য সরকারি জলাশয় লিজ নিয়ে সেটি ভরাট করে পার্ক বা অন্য কিছু নির্মাণ করতে পারেন না। আমি বিষয়টি জিকে কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে অবহিত করেছি। ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব তাদের।’
জিকের মেইন ক্যানেলের নিচ দিয়ে ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র সাইফুনটির মুখও মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। একটি অংশে সুইমিংপুল করে বিশেষ কাজ শেষ করা হয়েছে এবং পানির ফোয়ারা নির্মাণ চলছে। সেখানকার শ্রমিকরা জানান, মনি সাহেবের তত্ত্বাবধানে এই পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে।
জিকের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, মনি ওয়ার্ল্ড মনি লেক পার্কের জন্য ইজারা দেয়া হয়নি। জলাশয় টি মাছ চাষের জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে। তিনি কোন ভাবেই জলাশয় খনন বা ভরাট করতে পারেন না।
ইজারার শর্তাবলী ভঙ্গ করলে প্রয়োজনে ইজারা বাদ করা হবে।
জিকে কুষ্টিয়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম এই প্রতিবেদক কে বলেন, বিষয় টি আমরা ইতিমধ্যে অবগত হয়ে বন্ধ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ভেড়ামারা অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি ডাঃ কামরুল ইসলাম মনা বলেন, নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে লিজ দেওয়ার কোন বিধান নেই তারপর ও কি করে পায় আমার জানা নেই। কর্তৃপক্ষের
নীরবতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অপরদিকে পার্কের সুবিশাল কাজ করায় এলাকাটি আজ মাদকের অভয়ারণ্যে হয়ে গেছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী মাদক নিয়ে জিরো টলারেন্স বলেছেন, গত পরশু বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার মহিলা এমপি ফরিদা ইয়াসমিন ও মাদককে জিরো টলারেন্স বলেছেন। তারপর ও উন্মুক্ত জায়গাটি আজ মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে লেক ভরাট এবং সেখানে পার্ক স্থাপনের দায়ে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম মনিকে একাধিকবার রিং করলেও ফোন রিসিভ করেননি।
Devoloped By WOOHOSTBD