কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় অগ্রণী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত চেক উক্ত ব্যাংকেরই ভেড়ামারা শাখায় প্রত্যাখ্যাত (ডিঅজনার) হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ভুক্তভোগী ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার মোঃ মইনুল হোসেন বর্তমানে তিনি মিরপুর অগ্রণী ব্যাংক শাখায় দায়িত্ব পালন করছেন তিনি মোসাম্মৎ শামীমা আক্তার ববি র নিকটে অগ্রণী ব্যাংক ভেড়ামারা শাখার সঞ্চয় হিসাব নম্বর ০২০০০২৩০৪৩৯৫০ এর চব্বিশ লক্ষ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। গত ১২/০৪/২০২৬ ইং তারিখে ব্যাংক চেকটি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রত্যাখাত হয়। ডিজঅনার হওয়ার কারণ হিসেবে দুটি বিষয়কে চিহ্নিত করেছেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এর একটি হলো একাউন্টে পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ না থাকা এবং আরেকটি হলো অ্যাকাউন্ট হোল্ডার এর স্বাক্ষর এর সাথে মিল খুঁজে না পাওয়া। দ্বিতীয় কারণটি এলাকায় চাঞ্চল্য ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কি উক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা তার হিসাবের চেক প্রদান না করে অন্য কারোর চেক প্রদান করেছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, উক্ত চেকটি সারোয়ার হোসেনের ব্যাংক হিসাব নম্বরের। একজন ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি অন্য ব্যক্তির হস্তান্তর যোগ্য নয় এমন চেক স্বাক্ষর এবং হস্তান্তর করে থাকলে তা অবশ্যই গর্হিত অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হবে। এটি ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের নিদর্শন। সেই সাথে ব্যাংকে চেক উপস্থাপিত হবার পর প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বিষয়টি প্রতারণার শামিল। ভুক্তভোগী মোসাঃ শামীমা আক্তার ববি একজন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার। জানা গেছে ,গত ২০২৫ সালের শেষের দিকে উক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মইনুল ফেরত দেবার শর্তে শামীমা আক্তার ববিকে উক্ত চেক প্রদান করে ২৪ লক্ষ টাকা কর্জ নেন। প্রতিশ্রুতি মোতাবেক যথাসময়ে অর্থ ফেরত না পেয়ে সম্প্রতি অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় ভুক্তভোগী শামীমা আক্তার ববি ব্যাঙ্কে চেকটি উপস্থাপন করেন। এটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তিনি এখন চোখে সর্ষের ফুল দেখছেন। প্রত্যাশিত অর্থ না পাওয়ার কারণে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং খুবই কষ্টকর জীবন যাপন করছেন ও বিপদে পড়েছেন। এমতাবস্থায় , ভুক্তভোগী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাচ্ছেন। খোদ কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত চেক উক্ত ব্যাংকেরই শাখা থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় উক্ত কর্মকর্তার সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। যারা এই বিষয়টি জানতে পেরেছেন তাদের মধ্যে উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ সঞ্চারিত হয়েছে। উক্ত কর্মকর্তার পারিবারিক সূত্র সহ অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে উক্ত কর্মকর্তা মইনুল হোসেন ব্যক্তিগত জীবনে বেশ উৎশৃংখল জীবন যাপন করেন। তার বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় বিভিন্ন সময়ে আর্থিক প্রতারণা, ভয়-ভীতি প্রদর্শন হুমকি প্রদান সহ অন্যান্য মামলা এবং জিডি রয়েছে। কর্জগ্রহীতা একজন ব্যাংক কর্মকর্তা হওয়ায় এবং ভুক্তভোগীর সাথে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকায় সরল বিশ্বাসে তিনি টাকা ধার দেন। কিন্তু বর্তমানে টাকা ফেরত দিতে উক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা টালবাহানা শুরু করেছে।ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ মইনুল হোসেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পোড়াদহের আইলচারা গ্রামের মোঃ আজহার আলীর পুত্র মর্মে জানা গেছে। তিনি কাগজে কলমে অগ্রণী ব্যাংক ভেড়ামারা শাখায় কর্মরত থাকার কথা থাকলেও তাকে মিরপুর শাখায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। এব্যাপারে উক্ত ব্যাংক কর্মকর্তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি চেক ও তাতে স্বাক্ষর করার বিষয়টি ঢালাওভাবে অস্বীকার করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ডা: কামরুল ইসলাম মনা
সহ-সম্পাদকঃ ইয়াছির আরাফাত মিফতা
নির্বাহী সম্পাদকঃ মো. জাকির হোসেন মিথুন
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মন্টু রহমান
Copyright © 2026 দৈনিক হালচাল নিউজ. All rights reserved.