নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন প্রকার অপরাধ মূলক ঘটনা ঘটে এতে আইন শৃঙ্খলা অবনতি ঘটেছে। নির্বাচন সামনে রেখে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে থাকা এলাকায় এসে অস্ত্র মহরা ও মাদক দ্রব্য সহ বিভিন্ন বিষয় অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই আইন শৃঙ্খলা রক্ষা দায়িত্ব রত পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আমার অহংকার এই স্লোগান নিয়ে র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র, মাদক উদ্ধার, চাঞ্চল্যকর হত্যা এবং বিভিন্ন আলোচিত অপরাধীদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারী ও আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতারের মাধ্যমে র্যাব ইতোমধ্যেই জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজন ও তার বাহিনী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড মাধ্যমে আতংকের জনপথ তৈরী করে রেখেছে। সুজনের বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি, জমিদখল ও আধিপত্য বিস্তারসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ঐসব এলাকায় যেকোনো নতুন স্থাপনা নির্মাণের সময় তার বাহিনীকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং মারধরের ঘটনা ছিল নিয়মিত। শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড থেকে তার বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত চাঁদা আদায় করে। স্থানীয় ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত 'মাসোহারা' আদায় করার ও অভিযোগ রয়েছে। সুজন তার বাহিনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পৈতৃক জমি ও ভিটেমাটি জোরপূর্বক দখল করে। ভুক্তভোগীদের ভয় দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে জমি লিখে নেওয়া অথবা পেশিশক্তি ব্যবহার করে উচ্ছেদ করার ঘটনায় সে এলাকায় কুখ্যাত। আধিপত্য বজায় রাখতে সুজন প্রায়ই আগ্নেয়াস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করে আসছিল। সুজন বাহিনীর ছত্রছায়ায় মদনপুর ও বন্দর এলাকায় মাদকের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠে। তার সরাসরি তত্ত্বাবধান এলাকায় গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিল কেনাবেচা হয়। উল্লেখ্য যে, এই শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজনের অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হয়েছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজন ও তার সহযোগীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আনতে নারায়ণগঞ্জ র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। বুধবার ( ২৮ জানুয়ারি ২০২৬) খ্রিঃ তারিখ রাত ০৩:৩০ ঘটিকার সময় র্যাব-১১, সিপিএসসি এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন মদন পুর এলাকায় চাঁনপুর গ্রামে আসামীর বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে উক্ত আসামিকে ০১ টি বিদেশী রিভালবার ও ০৭ রাউন্ড গুলি আটক করতে সক্ষম হয়। তার অন্য এক সহযোগী'সহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো ১. মোঃ সুজন (২৯), পিতাঃ কানা মতিন ও ২. মোঃ রুবেল (৩৫), পিতাঃ মৃত আলী, সর্বসাং: চাঁনপুর, থানাঃ বন্দর, জেলাঃ নারায়নগঞ্জ। গ্রেফতারকৃত আসামি সুজনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানায় অস্ত্র, ডাকাতি, খুন সহ অন্তত ২২ টি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা যায়। আইন শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে অবিচল গতিতে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার কথা জানা যায় এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা নিয়মিত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ডা: কামরুল ইসলাম মনা
সহ-সম্পাদকঃ ইয়াছির আরাফাত মিফতা
নির্বাহী সম্পাদকঃ মো. জাকির হোসেন মিথুন
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মন্টু রহমান
Copyright © 2026 দৈনিক হালচাল নিউজ. All rights reserved.