বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে রাজপথ মানেই ত্যাগ, আর ত্যাগ মানেই ফরিদা ইয়াসমিন শোভা। টানা ১৭ বছর ধরে মামলা-হামলা, গ্রেপ্তার, লাঞ্ছনা আর দমন-পীড়নের মাঝেও যিনি মাথা নত করেননি—গাইবান্ধার রাজনীতিতে তিনি আজ এক প্রতীকী নাম। দলের দুর্দিনে রাজপথের সম্মুখ সারিতে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামকে বেগবান করা এই নারী নেত্রী পরিচিত ‘রাজপথের অগ্নিকন্যা’ হিসেবে।
দলীয় সূত্র জানায়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি কঠিন অধ্যায়ে ফরিদা ইয়াসমিন শোভা ছিলেন দৃঢ়, আপসহীন। সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনেও তিনি ছিলেন নেতৃত্বের প্রথম সারিতে—নারীদের কণ্ঠে সাহস জোগানো, কর্মীদের মনোবল চাঙা করা এবং সংগঠনের শৃঙ্খলা অটুট রাখায় তাঁর ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান।
বর্তমানে গাইবান্ধা জেলা মহিলা দল-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনরত এই পরীক্ষিত নেত্রী দীর্ঘদিনের ত্যাগে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্ত ভিত দিয়েছেন। একের পর এক রাজনৈতিক মামলা, বাড়ি-ঘর ঘেরাও, কর্মীদের ওপর নির্যাতন—কোনোটাই তাঁকে রাজপথ ছাড়াতে পারেনি। বরং প্রতিটি আঘাত তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে—এমনটাই বলেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
তৃণমূলের অভিমত, গাইবান্ধার নারীদের ন্যায্য অধিকার ও রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে ফরিদা ইয়াসমিন শোভা একজন যোগ্য প্রতিনিধি। দীর্ঘ আন্দোলনের অভিজ্ঞতা, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নেতৃত্ব এবং সর্বস্তরের গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর আসন্ন মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ-এর সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হিসেবে তাঁর নামটি সামনে আসাই স্বাভাবিক—এমন প্রত্যাশা তৃণমূল থেকে শীর্ষপর্যায়ে।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে ফরিদা ইয়াসমিন শোভার অবদান অনস্বীকার্য। গাইবান্ধার আন্দোলন-সংগ্রামের সম্মুখে থেকে যিনি দলকে এগিয়ে নিয়েছেন, তাঁর মতো ত্যাগী ও সাহসী নেত্রীকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা হবে গাইবান্ধাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন।
দলীয় দুর্দিনের রাজপথে যাঁর কণ্ঠ ছিল বজ্রনির্ঘোষ, যাঁর উপস্থিতি কর্মীদের সাহস জুগিয়েছে—সেই ফরিদা ইয়াসমিন শোভা আজ সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি মনোনয়নের একজন জোরালো দাবিদার—এ কথা বলছে গাইবান্ধার রাজপথ, বলছে ১৭ বছরের ত্যাগের ইতিহাস।
Devoloped By WOOHOSTBD