কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পারিবারিক কলহ ও পরকীয়া সম্পর্কের জেরে মো: লালন ইসলাম (৩৯) নামের এক ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
গতকাল ১০ জুলাই (শুক্রবার) সন্ধ্যায় ভেড়ামারা থানাধীন বাহাদুরপুর বাজারের সার ও কীটনাশক দোকানের সামনের রাস্তায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ব্যবসায়ী লালন ইসলাম বর্তমানে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মো: মোয়াল্লেম হোসেন (মিঠন) বাদী হয়ে ভেড়ামারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী মিঠন জানান, আহত লালন ইসলাম তার মেজ ভাই। বিবাহের কিছুদিন পর থেকেই মিঠনের স্ত্রী পারিবারিক কলহ সৃষ্টি করতে থাকেন। পরবর্তীতে মিঠন জানতে পারেন যে, বিয়ের আগে থেকেই তার স্ত্রী অন্য একটি ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। সেই পরকীয়া সম্পর্কের সূত্র ধরেই স্বামীকে অপছন্দ করা এবং সংসার না করার অজুহাতে তিনি বাবার বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন।
এই নিয়ে পারিবারিক অশান্তি চরম আকার ধারণ করলে মিঠন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে শ্বশুরবাড়ি যান। তবে তার স্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে তিনি আর সংসার করবেন না। একই সাথে মিঠনের দেওয়া স্বর্ণালংকার, বিভিন্ন আসবাবপত্র ও নগদ অর্থ দাবি করেন।
এই অর্থ ও গহনা দাবির বিষয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে আলোচনা চলমান ছিল। তবে স্ত্রীর অন্যায় দাবির বিরোধিতা করে আসছিলেন মিঠনের মেজ ভাই আহত লালন ইসলাম। স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) সহ এলাকার অনেকেই এই বিষয়টি অবগত ছিলেন। লালন ইসলাম এই দাবির বিরোধিতা করায় তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল স্ত্রীর পরিবার।
অতর্কিত হামলা ও ছিনতাই ঘটনায়
বাদী মিঠন অভিযোগ করে বলেন, "আমার ভাই বিরোধিতা করার কারণে আমার স্ত্রীর পরিবারের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে বাহাদুরপুর বাজারে আমার দোকান এবং আমার বড় ভাইয়ের দোকানে আমাদের ওপর আক্রমণ করার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। ঘটনার সময় আমি দোকানে না থাকায় তারা আমার মেজ ভাই লালনকে একা পেয়ে অতর্কিত দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এ সময় নগদ অর্থও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।"
তিনি আরও বলেন, "আমি এই কাপুরুষোচিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ও ন্যায়বিচার কামনা করছি।"
ঘটনার পর স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় ব্যবসায়ী লালন ইসলামকে উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।
এই বিষয়ে ভেড়ামারা থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ডা: কামরুল ইসলাম মনা
সহ-সম্পাদকঃ ইয়াছির আরাফাত মিফতা
নির্বাহী সম্পাদকঃ মো. জাকির হোসেন মিথুন
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মন্টু রহমান
Copyright © 2026 দৈনিক হালচাল নিউজ. All rights reserved.