• সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মহিপুরে বিরোধপূর্ণ জমিতে পুন: স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়িতে মজুদ ককটেল বিস্ফোরণ, হতাহত নেই গোমস্তাপুর সীমান্তে ৫ লাখ ৫৯ হাজার ভারতীয় বিড়ি ও নৌকা জব্দ চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাল নোট ও তৈরির সরঞ্জামসহ ২জন গ্রেপ্তার  কৃষকের সার যাচ্ছে অন্য উপজেলায়, চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ কটিয়াদীতে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যা,এলাকায় চাঞ্চল্য সীতাকুণ্ডে সমাজ কল্যাণ ফেডারেশনের আয়োজনে৩০হাজার বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি-২০২৬ অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাংবাদিক এসোসিয়েশনের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ ব্যবসায়ীর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর, তাহিরপুরে উত্তেজনা

পত্নীতলায় বিএডিসির সার খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ, কৃষকদের ক্ষোভ

Muntu Rahman / ১৪ Time View
Update : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় কৃষকদের জন্য সরকারি বরাদ্দের বিএডিসির সার খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, সরকারি ডিলারের কাছে সার নিতে গেলে ‘সার নেই’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও একই সার খুচরা বাজারে বেশি দামে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। এতে কৃষকরা সরকারি ভর্তুকির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

নজিপুর পৌরসভার মাদ্রাসার মোড় এলাকায় অবস্থিত বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্স-এর বিরুদ্ধে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি এবং বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত মূল্যে সার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি মূল্য তালিকা উপেক্ষা করে ইউরিয়া, এমওপি-সহ বিভিন্ন ধরনের সার প্রতি বস্তায় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করছে। সম্প্রতি সরদারপাড়া মোড় থেকে সামবাটি বাজারে ইউরিয়া ও এমওপি সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সামনে আসে।

সরেজমিনে উপজেলার পত্নীতলা, মধইল বাজার, সিধুয়া, কৃষ্ণপুর, শিহাড়া, নির্মইল ও নোধুনী বাজার ঘুরে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সেখানে বিএডিসির এমওপি (MOP) ও ডিএপি (DAP) সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রতি বস্তায় প্রায় ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা যায়।

শিবপুর এলাকার এক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে কয়েকবার সরকারি ডিলারের কাছে গিয়েছি। কিন্তু তারা বলেছেন সার নেই। অথচ সিধুয়া মোড়ে গেলেই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এমওপি ও ডিএপি সার পাওয়া যাচ্ছে। ডিলারের কাছে না পেয়ে বাধ্য হয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।”

একাধিক কৃষকের অভিযোগ, চাহিদার সময় সরকারি সার কৃষকদের কাছে সরবরাহ না করে অসাধু চক্রের মাধ্যমে খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে সরকারি ভর্তুকির সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরকারি মূল্য তালিকা অনুযায়ী ইউরিয়া সারের প্রতি বস্তার মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং এমওপি সারের প্রতি বস্তার মূল্য ১ হাজার টাকা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এসব সার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয় খুচরা সার বিক্রেতা হুমায়ন বলেন, “আমি এমওপি সার প্রতি বস্তা ১ হাজার ৪০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। মাঝে-মধ্যে খোলা বাজারে বিক্রির জন্য সেখান থেকেই সার আনতে হয়। দাম বেশি হলেও অন্য কোথাও পাওয়া যায় না বলে বাধ্য হয়ে কিনি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্সের ম্যানেজার বলেন, “বিষয়টি কৃষি অফিস জানে। কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা বিক্রি করছি।”

তবে পত্নীতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “সরকারি নির্ধারিত মূল্যের বাইরে সার বিক্রির বিষয়ে লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সরকারি মূল্যের বাইরে সার বিক্রির অভিযোগে কৃষক ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Devoloped By WOOHOSTBD